কুষ্টিয়া কারাগারে মাদক মামলায় আটক বিদ্যুৎ আলী (২৭) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার ভোরে কারাগারের হাসপাতালের শৌচাগার থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে কারারক্ষীরা বিদ্যুৎ আলীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎ আলী গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর মাদক মামলায় কারাগারে আসেন এবং তাঁর মামলাটি বিচারাধীন ছিল। তাঁর বাড়ি ভেড়ামারা উপজেলার মোকারমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামে। বাবার নাম চাঁদ্দু আলী।
কুষ্টিয়ার জেল সুপার শরিফুল আলম প্রথম আলোকে বলেছেন, বিদ্যুৎ আলী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে দুই দিন আগে কারাগারের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে কারাগারের হাসপাতালের শৌচাগারের ভেতরে জানালার রডে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলছিলেন তিনি। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাজতির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা আসছেন। জেলা প্রশাসককেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং এ জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদ মোস্তফা হাসানের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করানো হবে। এরপর যথাযথ আইন অনুযায়ী লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।