সুনামগঞ্জে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা নদীর লঞ্চঘাট এলাকায়
সুনামগঞ্জে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা নদীর লঞ্চঘাট এলাকায়

সুনামগঞ্জ আবার বজ্রসহ বৃষ্টি, ধান কাটা ও শুকানো নিয়ে ভোগান্তিতে কৃষক

সুনামগঞ্জে আবার বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হওয়ায় হাওরের ধান কাটা ও শুকানো নিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। টানা দুর্যোগের পর দুই দিনের স্বস্তি মিললেও গতকাল শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি।

গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া বজ্রসহ বৃষ্টি আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে টানা চার দিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার কিছুটা রোদ দেখা গেলে হাওরের কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে নামেন। গতকাল দিনে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। তবে রাতে আবার বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় উজানের পাহাড়ি ঢল কম থাকায় সুরমা নদীর পানি তিন সেন্টিমিটার কমেছে। তবে হাওরে এখনো পানি থাকায় ধান কাটায় ভোগান্তি কাটেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধান শুকানোর সমস্যা। রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান অনেক জায়গায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, গত বৃহস্পতিবার ও পরদিন শুক্রবার বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকেরা দুই দিন স্বস্তিতে কাজ করতে পেরেছেন। তবে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস আছে। বৃষ্টি বাড়লে নদী ও হাওরের পানি আবারও বাড়তে পারে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই পানিতে তলিয়ে থাকা ধান কেটে নৌকায় নিয়ে উঁচু জমির দিকে ফেরেন দুই কৃষক। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার দেখার হাওরে

কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ পর্যন্ত হাওরের ৫৯ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে নিচু এলাকায় ৭১ শতাংশ এবং উঁচু এলাকায় ৫৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট এক লাখ ৩২ হাজার ৪১৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

অন্যদিকে বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে ১৫ হাজার ৩৫৩ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে এ হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন হাওর আন্দোলনের নেতারা। তাঁদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি; প্রায় অর্ধেক ধানই নষ্ট হয়েছে।

জেলার একাধিক কৃষক জানান, গত রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত জেলার আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত বৈরী। টানা বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঠান্ডা বাতাসে হাওরে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সময়ে উজানের ঢলে পানি বাড়তে থাকায় অনেক জমির ধান তলিয়ে যায়।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক রেদোয়ান আলী বলেন, দুই দিন ভালো থাকার পর আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে ধান কাটা যেমন কঠিন হচ্ছে, তেমনি শুকানোও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিচু এলাকার সব ধান পানির নিচে চলে গেছে, সেগুলো আর তোলার মতো নেই। এখন উঁচু জমির ধান কাটার চেষ্টা চলছে।

গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে ভেজা ধান শুকানোর চেষ্টা করেন কৃষকেরা

অন্তত আরও তিন-চার দিন টানা রোদ দরকার ছিল বলে জানান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক স্বপন কুমার বর্মণ। তিনি বলেন, কয়েক দিন স্তূপ করে রাখায় ধান নষ্ট হতে শুরু করেছে। এক দিনের রোদে ধান শুকানো সম্ভব নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। এখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি না হলে ধান কাটা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।