
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ভদ্রাবতী নদীর তীরে ‘বউমেলা’ ঘিরে জমে উঠেছে বারুহাঁস বাজার এলাকা। চৈত্রের গরম উপেক্ষা করে আজ শনিবার সকাল থেকে এ মেলায় নারী, শিশু ও কিশোরীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
গতকাল শুক্রবার প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বারুহাঁস মেলা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়ভাবে এটি ‘ভদ্রাবতী মেলা’ বা ‘ভাদাই মেলা’ নামে পরিচিত। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভদ্রাবতী নদী স্থানীয় লোকদের কাছে ‘ভাদাই’ নামে পরিচিত হওয়ায় মেলার এমন নামকরণ। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, চৈত্রের পূর্ণিমা উপলক্ষে বারুহাঁসের জমিদার পরিবারের উদ্যোগে চলনবিল অঞ্চলে এ মেলার সূচনা। সেই ঐতিহ্য ধরে এখনো নিয়মিত আয়োজন হচ্ছে। বারুহাঁস মেলার ঠিক পরদিন বউমেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বার্ষিক এই আয়োজন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আয়োজন।
তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে বারুহাঁস গ্রামের অবস্থান। বউমেলায় নারীরা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, প্রসাধনী ও শিশুদের খেলনা কিনতে ভিড় করেন। এ উপলক্ষে অনেক বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের আগমন ঘটে।
মেলায় আসা হাফিজুর রহমান বলেন, মেলা উপলক্ষে তিনি শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন। আজ স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের নিয়ে বউমেলায় ঘুরতে পেরে ভালো লাগছে।
মেলায় আসা তিন নারী জানান, তাঁরা মেয়েদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার পাশাপাশি সংসারের দরকারি সামগ্রীও কিনছেন। বছরের এই দিনটি তাঁদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
পাশের বিনোদপুর গ্রামের আরিফ হাসান বলেন, শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এই মেলা। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসে ভালো লাগছে তাঁর।
উচ্চমাধ্যমিকের দুই শিক্ষার্থী বলেন, পড়াশোনার ফাঁকে আজ বউমেলায় ঘুরতে এসে কেনাকাটা ও পছন্দের খাবার খেয়ে দিনটি উপভোগ করছেন তাঁরা। তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে আসা এক নারী বলেন, প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পাশাপাশি পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগও মিলছে মেলায়।
দীর্ঘদিন ধরে মেলায় গৃহস্থালির পণ্য বিক্রি করেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী এলাকার আনসার আলী। তিনি বলেন, এবার বিক্রি মোটামুটি ভালো হলেও তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ না থাকায় দর্শনার্থীরা বেশি সময় অবস্থান করছেন না।
নাটোরের তরাই এলাকা থেকে আসা দুই নারী বিক্রেতা জানান, তাঁরা বহু বছর ধরে চুড়ি, দুল ও প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি করছেন। তবে এসব পণ্য এখন সারা বছর বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় বিক্রি কিছুটা কম।
বারুহাঁস বাজারের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর পর এবার বউমেলা বেশ জমজমাট হয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ রাখতে স্থানীয়রা কাজ করছেন।
উপজেলার একটি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক সনাতন কুমার দাস বলেন, আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের ধারক এই মেলা। বউমেলাও এবার উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি।