
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় শ্বশুরবাড়ির কবরস্থানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস আরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার খানেবাড়ি গ্রামের শাহী মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ফেরদৌস আরার পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর সদরে। পরে তাঁরা সপরিবারে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খানেবাড়ি গ্রামে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ফেরদৌস আরার বাবার বাড়ি এলাকার শেখদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ফেরদৌস আরার স্বামী মো. শাহজাহান দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁদের সাত বছর বয়সী এক মেয়ে আছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে খানেবাড়ি গ্রামে গেলে মো. শাহজাহান বলেন, ফেরদৌস আরা মাইগ্রেনের ব্যথায় ভুগছিলেন। ঢাকার ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল সাতটার দিকে তিনি স্ট্রোক করেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দাউদকান্দির চিনামুড়া উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মাজারুল ইসলাম বলেন, মো. শাহজাহান ঢাকা কলেজে বাংলা বিভাগে এবং ফেরদৌস আরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতেন। শাহজাহান ও ফেরদৌস আরার মধ্যে পরিচয়ের পর বিয়ে হয়।
দাউদকান্দিতে ফেরদৌস আরার জানাজার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
ফেরদৌস আরা ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি সহকারী কমিশনার হিসেবে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি ৩৫তম বিসিএসে (শিক্ষা) প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে দাউদকান্দির হাসানপুর শহীদ নজরুল সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ছিলেন।