
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র মো. নাঈমকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন তার বাবা ইব্রাহীম খলিল। গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামে নানাবাড়ির প্রায় ১০০ গজ দূরের একটি ধানখেতের পাশের রাস্তা থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিন বছর আগে মা–বাবার বিচ্ছেদের পর নাঈম মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে থাকত। সেখানে একটি মাদ্রাসায় পড়ত সে।
সুবর্ণচর থানার সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছেলেকে হত্যার দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইব্রাহীম খলিল। জবানবন্দিতে ইব্রাহীম খলিল বলেন, সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রতিশোধ নিতে তিনি ছেলেকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে এনে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আজ নিহত নাঈমের মা ও ইব্রাহীমের সাবেক স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে ইব্রাহীম খলিলকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এর আগে পুলিশ গত মঙ্গলবার ইব্রাহীম খলিলকে হেফাজতে নেয়। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইব্রাহীম খলিল রাগ-ক্ষোভ থেকে ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে নাঈম তার নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে আসছিল। গত ২০-২৫ দিন আগে তার মা দ্বিতীয় বিয়ে করলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সাবেক স্বামী ইব্রাহীম খলিল এবং ফাতেমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকিধমকি দেওয়া শুরু করেন।
নিহত নাঈমের স্বজনেরা জানান, ২১ সেপ্টেম্বর রাতের খাবার খেয়ে নানার ঘরেই ঘুমিয়ে ছিল নাঈম। ভোরে তাকে আর ঘরে পাওয়া যায়নি এবং দুপুরে রাস্তার পাশের ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ইব্রাহীম খলিল ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতেও জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ক্ষোভ কাজ করেছে বলে দাবি করেন ইব্রাহীম খলিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ছেলে মারা যাওয়ার পর অভিযুক্ত বাবা শুরুতে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে দাফনের সময় কৌশলে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তি দেন। পরে আদালতেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।