কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমানের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ায় দুই উপজেলার ১৭ জন নেতাকে দলটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শেখ মজিবুর রহমান এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ কারণে সম্প্রতি তাঁকে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এবার তাঁর সমর্থকদের বহিষ্কার করা হলো। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, যেসব নেতা-কর্মী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করছেন, সামনে তাঁদেরও বহিষ্কার করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা কমিটির নেতাদের মাধ্যমে বহিষ্কৃতরা বিষয়টি নিশ্চিত হন। বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তুফা আমিনুল হক, দীঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনির হোসেনসহ বাজিতপুর ও নিকলীর বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।
দলীয় সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমানের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।
এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘এখানেই শেষ নয়, বহিষ্কার আরও আসবে। দলীয় পদধারী কেউ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে না থাকলে পদ শূন্য হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
উল্লেখ্য, প্রথমে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মজিবুর রহমানকে। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সৈয়দ এহসানুল হুদাকে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে থাকার কারণে শেখ মজিবুর রহমানকে আগেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শেখ মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। এখন আমার পক্ষে থাকার কারণে ১৭ জনকে পদ হারাতে হলো। এই ঘটনায় এলাকার মানুষ ধানের শীষের প্রতি ক্ষুব্ধ। নির্বাচনে তারা হাঁস প্রতীকে ভোট দিয়ে এর জবাব দেবে।’
পদ হারানোর প্রতিক্রিয়ায় বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘দলীয় সভাপতির পক্ষে থাকায় পদ হারাতে হয়েছে। সমস্যা নেই। পদ গেলে পদ আসবে। কিন্তু আমাদের নেতা শেখ মজিবুর রহমানের সঙ্গ ত্যাগ করা যাবে না। দুই উপজেলার বেশির ভাগ নেতা-কর্মী এখন শেখ মজিবুর রহমানের পক্ষে। পক্ষ নেওয়ার কারণে পদ কেড়ে নেওয়া হলে হয়তো প্রায় সবার পদই কেড়ে নিতে হবে। তখন দুই উপজেলা থাকবে ঠিকই, বিএনপির নেতা থাকবে না।’
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান। যাঁরা দল ও দলের প্রার্থীর পক্ষে নেই, তাঁদের পদও থাকবে না।
এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ুম (হরিণ), জামায়াতে ইসলামীর রমজান আলী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের দেলাওয়ার হোসাইন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাজজাদ হোসেন (হারিকেন) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. অলিউল্লাহ (মোমবাতি)।