
কৃষকের বাগান থেকে সংগ্রহ করা মৌসুমের শেষ কাঁঠালগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে চারটি ভ্যানে করে নেওয়া হচ্ছে হাটে। উৎসবের আমেজে ভ্যানের চারদিক সাজানো হয়েছে রঙিন কাগজের নিশান ও জরি দিয়ে।
ঢাকঢোল পিটিয়ে স্থানীয় চৈতন্যা হাটের দিকে এগিয়ে চলছে ভ্যান। সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষকসহ একদল গ্রামবাসী নেচে–গেয়ে উল্লাস করছেন। গাছের শেষ কাঁঠাল বিদায় জানানোর এই রীতির স্থানীয় নাম ‘নিশান উৎসব’।
বুধবার সকালে এই দৃশ্যের দেখা মেলে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের বিরাজনগর গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর কাঁঠালের মৌসুমের শেষ দিকে গাছে থাকা অবশিষ্ট কাঁঠাল এভাবেই হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। আসছে বছর কাঁঠালের ফলন যেন আরও ভালো হয়, এই আশায় নিশান উৎসব উদ্যাপন করা হয়। উৎসবটি শত বছরের ঐতিহ্য। শিবপুর উপজেলার বাঘাব ও যোশর, রায়পুরা উপজেলার মরজাল এবং বেলাব উপজেলার উজিলাব ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামে বছরের পর বছর ধরে এ উৎসব উদ্যাপন করা হচ্ছে। প্রতিবছরই কাঁঠালের মৌসুমের শেষ সময়ে শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা ছোট থেকেই দেখে আসছি, আমাদের বাবা–দাদারা এই উৎসব করে আসছেন। আমরাও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই উৎসব করি। আগে আমরা নিজেদের মাথায় করে কাঁঠাল নিয়ে উৎসব করতে করতে হাটে গিয়ে কাঁঠাল বিক্রি করতাম। এখন সবাই মিলে ভ্যানে করে নেচে-গেয়ে হাটে নিয়ে যাই।’
উৎসবটা মূলত স্থানীয় কৃষকেরা নিজেদের উদ্যোগে করে থাকেন বলে জানালেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল মিয়া।
এবার কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে, তাই আনন্দটাও একটু বেশি মন্তব্য করেন কৃষক আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে প্রত্যেকের গাছ থেকে শেষ সময়ের শেষ ভালো কাঁঠাল নিয়ে এসে একটি জায়গায় জমানো হয়। পরে ঢাকঢোলের তালে সবাই নেচে–গেয়ে সেসব কাঁঠাল বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। এসব কাঁঠালের ভালো দামও পাওয়া যায়।
হাটে আসা কাঁঠালের পাইকার সৈয়দ উদ্দিন মিয়া বলেন, এখান থেকে কাঁঠাল পাইকারি কিনে ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
চৈতন্যা বাজার কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, বাগান থেকে কাঁঠাল বিক্রি করে প্রত্যাশিত মুনাফা হওয়ার পরই কৃষকেরা এ উৎসবের আয়োজন করেন। এটি এ অঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্য। কৃষকদের এই উৎসবের সঙ্গে বাজার কমিটি এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররাও যোগ দেন। এক মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার কাঁঠাল বিক্রি হয় এই হাটে। এ বছর শেষ হাটে ১ হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে সবচেয়ে বড় কাঁঠালটি বিক্রি করা হয়েছে।