লালচে পাতায় ছেয়ে আছে নাগেশ্বরগাছ। বুধবার সকালে মৌলভীবাজারের শান্তিবাগ ওয়াকওয়ের পাশে
লালচে পাতায় ছেয়ে আছে নাগেশ্বরগাছ। বুধবার সকালে মৌলভীবাজারের শান্তিবাগ ওয়াকওয়ের পাশে

বৃষ্টির ছোঁয়ায় গাছে গাছে জেগেছে নতুন পাতা

‘চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ/জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশ্বত্থের করে আছে চুপ’—এখন সময়টা এমনই। চারদিকে গাছে গাছে নতুন পাতা। নানা বর্ণে পাতাদের রং বদলের সময়। কোনো গাছ হালকা সবুজ বা পিত রঙের পাতায় ছেয়ে আছে। কোথাও দলে দলে গাঢ় সবুজ হয়ে উঠছে পাতারা।

কিছুদিন আগেও এমন অবস্থা ছিল না। চারদিকে অনেক গাছই ছিল পাতাশূন্য। গাছে গাছে শুকনা ডালপালাই শুধু দেখা যেত। পাতাগুলো হলুদ বা খয়েরি রঙের হয়ে একসময় ঝরে পড়েছে। শীতের শেষে গাছগুলো কী রকম হাহাকার জড়িয়ে রেখেছিল শরীরে। সেই ধূসর সময় পার করে প্রকৃতিতে এখন রূপ বদলের পালা চলছে।

প্রকৃতিতে এখন বসন্তকাল। গাছে গাছে কোকিল ডাকছে। ধূলি-ধূসর এলোমেলো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সময়। কখনো কখনো সেই চঞ্চল হাওয়া গাছে গাছে আছড়ে পড়ছে। পথ চলতে ধুলামাখা বাতাস চোখে-মুখে এসে ঝাপটা মারছে। মাঠে কুণ্ডলি পেঁচিয়ে উড়ছে খড়কুটো। এই উড়ো হাওয়ায় ছেদ ফেলেছে বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস। কিছুদিন ধরেই থেমে থেমে বৃষ্টি। কখনো হালকা, কখনো মুষলধারে। নদ-নদীতেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মরা গাঙে ধীরে ধীরে স্রোত ফিরে আসছে। তবে সবচেয়ে বেশি বদল ঘটছে গাছের ডালে, পাতায় পাতায়।

হিজলগাছে নতুন পাতা। বুধবার সকালে মৌলভীবাজারে মনু নদের পাড়ে

বুধবার মৌলভীবাজারের সকালটা ছিল মেঘে ঢাকা। একটা সময় কালবৈশাখীর মতো মেঘ জমে আকাশের কোণে। তারপর একসময় সব বৃক্ষলতা কাঁপিয়ে, সমস্ত খড়কুটো উড়িয়ে আসে ঝোড়ো বাতাস। চৈত্রের শুকনা বাতাসের বদলে বৃষ্টিভেজা বাতাস বইতে থাকে। একটা সময় আবার সবকিছু স্থির হয়ে যায়, আবার রোদ ওঠে। ধুলামাখা পাতাগুলো ধুয়েমুছে গেলে চকচক করে ওঠে নতুন পাতা।

দেবদারুগাছ সেজে উঠেছে নতুন পাতায়। বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে

এবার আগেভাগে বৃষ্টি হওয়ায় চৈত্রেই শান্ত সবুজের দেখা মিলছে। কদিন আগেও যে বট-অশ্বত্থের সব পাতা ঝরে পড়েছিল, সেগুলোতে এখন নতুন পাতা এসেছে। ডালে ডালে নানা রঙের পাতা। বট ও মেহগনিগাছে এখন হালকা সবুজ পাতা। মনু নদের পাড়ে শান্তিবাগ এলাকায় ওয়াকওয়ের পাশে অনেক গাছ। এখানকার বেশির ভাগ গাছই শীতে অনেকটাই ন্যাড়া মাথায় দাঁড়িয়ে ছিল। দূর থেকেও দেখা যেত পাতাহীন অসংখ্য শাখা-প্রশাখা।

আমগাছের পাতারাও রূপ বদলেছে। বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোড এলাকায়

বৃহস্পতিবার সকালে গাছগুলোকে দেখা গেছে ভিন্ন রূপে। সবুজ পাতায় গাছগুলো তাদের ফেলে আসা সময়কে বদলে নিয়েছে। মনু নদের পাড়ে অনেক হিজলগাছে গজিয়েছে বেগুনি ও তামাটে রঙের নতুন পাতা। পাশেই হয়তো আছে পুরোনো হিজলের ক্লান্ত পাতারাও। শুধু হিজলই নয়, নদের পাড়ের যেসব জারুলগাছের শাখা শীতে পাতা ঝরিয়ে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিল। নতুন পাতা পেয়ে তারা এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ওয়াকওয়ের ভেতরে শুধু পাতার সৌন্দর্যেই অন্য রকম হয়ে আছে কয়েকটি নাগেশ্বরগাছ। লালচে কচি পাতা তির তির করে হাওয়ায় দুলছে। কিছু আমগাছে তামাটে পাতা ফুলের মতো ফুটে আছে। নতুন পাতায় ভরে উঠেছে দেবদারুগাছ। বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে প্রকৃতি কয়েক দিনেই হয়ে উঠেছে সবুজ।