
ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় যুবলীগ নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠি শহরের ডাকঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অপর তিনজন হলেন ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম অপু (৩২), সৈয়দ হাদিসুর রহমানের অনুসারী মো. হারুন ওরফে টাইগার হারুন (৪৫) ও মো. সাগর (৩০)।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বাপ্পা দত্ত বলেন, দুজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, জেলা যুবলীগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির ডাকা অবরোধের প্রতিবাদে আজ সকালে শান্তি সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে শহরের ডাকঘরের সামনের সড়কে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল শরীফ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী জড়ো হন। তাঁরা মোটরসাইকেল ডাকঘরের সামনে পার্কিং করে পাশের জননী হোটেলে সকালের নাশতা করতে ঢোকেন। এরই মধ্যে যুবলীগ নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমানের নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে করে শতাধিক নেতা-কর্মী এসে পার্কিং করা মোটরসাইকেলগুলো ভাঙচুর করেন। এতে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধারালো অস্ত্রের কোপে সৈয়দ হাদিসুর রহমানসহ চারজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেন। গুরুতর আহত সৈয়দ হাদিসুর রহমান ও মো. হারুনকে বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় রেজাউল করিম ও কামাল শরীফের লোকজন হামলা করেছেন। এ সময় সৈয়দ মিলনসহ আমদের চারজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।’
জেলা যুবলীগ সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সৈয়দ হাদিসুর রহমান নিজেকে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপদপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুবলীগের ঝালকাঠি জেলা শাখার কোনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ফেসবুকে যে কমিটির তালিকা ছড়ানো হয়েছে, সেটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এ নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠিতে কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের সই জাল করে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ঝালকাঠি সদর থানায় মাসুদ সিকদার নামের যুবলীগের এক কর্মী মামলাটি করেন। সম্প্রতি সৈয়দ হাদিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি শহরের ডাক্তার পট্টি এলাকায় ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার বাড়িসহ দুটি পরিবারের বসতভিটা দখলের অভিযোগ ওঠে। এর আগে ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি দেশীয় অস্ত্রসহ সৈয়দ হাদিসুর রহমান ও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ।
জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম বলেন, সৈয়দ হাদিসুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখলসহ একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর জন্য জেলা যুবলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কে বা কারা তাঁকে কুপিয়েছে, তা তাঁদের জানা নেই। তবে তাঁরা সকাল থেকে দলের স্বার্থে রাজপথে অবস্থান করছেন।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উদ্দিন সরকার বলেন, এ ঘটনায় সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।