নরম খোলসের কাঁকড়া চাষ করা লাভজনক। এই কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি করা যায়। তাই শ্যামনগরের অনেক মানুষ এই কাঁকড়া চাষ করছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাছেই সুন্দরবন। এই উপজেলার অধিকাংশ মানুষ সুন্দরবনের মাছ, কাঠ ও মধু সংগ্রহ করে সংসার চালান। কিন্তু বছরের প্রায় ছয় মাস থাকে মাছ কিংবা কাঁকড়া ধরাসহ বনে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ উপজেলার মানুষ প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই সময় রোজগার বন্ধ থাকলে পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটে অনেকের। এ ধরনের প্রতিকূল সময়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে নরম খোলসের কাঁকড়া চাষ। এই কাঁকড়া চাষ করে অনেকের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।
বিদেশে রপ্তানির সুযোগ থাকায় এবং লাভ বেশি হওয়ায় শ্যামনগরের প্রায় দুই হাজার মানুষ কাঁকড়া চাষে ঝুঁকছেন। এই কাঁকড়া বিক্রি করে অনেক পরিবার বছরে দুই-তিন লাখ টাকাও আয় করছে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উপকূলীয় এলাকায় নরম খোলসের কাঁকড়া চাষ শুরু হয়। এটি বিদেশিদেরও বেশ জনপ্রিয় খাবার। তবে শুরুর দিকে প্রশিক্ষণ না থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আর্থিক সংকটের কারণে প্রশিক্ষিত হলেও অনেকে চাষ শুরু করতে পারছিলেন না। বিশ্ববাজারে নরম খোলসের কাঁকড়া রপ্তানি করতে চাষিদের পাশে দাঁড়ায় একটি বেসরকারি সংস্থা। প্রশিক্ষণের পর আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে চাষিদের সহযোগিতা করে সংস্থাটি।
কাঁকড়া চাষিরা জানান, শক্ত খোলসের কাঁকড়া ধরে প্রথমে দুটি কানসহ ৬টি নলি (হাত-পা) কেটে লোনা পানির প্লাস্টিকের বক্সে রাখা হয়। দেওয়া হয় খাবার। বক্সে রাখার পর তিন ঘণ্টার মধ্যে কাঁকড়াটি তার শক্ত খোলস পরিবর্তন করে নতুন খোলস নেয়। ওই সময় কাঁকড়াটি একেবারে নরম থাকে। তিন ঘণ্টার মধ্যে ওই কাঁকড়া তুলতে না পারলে কাঁকড়াটি পুনরায় শক্ত খোলসে পরিণত হয়ে যায়। তিন ঘণ্টা পরপর একজন চাষিকে প্রতিটি বক্স দেখতে হয়। শক্ত কাঁকড়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়। শক্ত থেকে নরম খোলসে পরিণত করার পর ৮০০-১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।
খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এ বি এম জাকারিয়া জানান, নরম খোলসের কাঁকড়া চাষ হয় খুলনা বিভাগের মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়। এ উপজেলা থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৬৭ দশমিক ১৬ মেট্রিক টন কাঁকড়া রপ্তানি করে ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৬ ডলার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫১৮ দশমিক ১৪ মেট্রিক টন রপ্তানি করে ৬৯ লাখ ৫১ হাজার ১৩৮ ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮০২ দশমিক ৭ মেট্রিক টন রপ্তানি করে ১ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৫ ডলার ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬২২ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন রপ্তানি করে ৮৬ লাখ ৯৮৮ ডলার আয় হয়েছে।
বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের আবদুল্লাহ গাজী একজন কাঁকড়া চাষি। তিনি গতবার আড়াই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রায় চার লাখ টাকা বিক্রি করেছিলেন। খরচ বাদে পাঁচ মাসে তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ হয়।