টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঁদপুর রাবার বাগান এলাকায় বসবাসরত একটি গারো পরিবার নতুন একটি ঘর তোলার উদ্যােগ নিলে বাগান কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন। গত সোমবার
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঁদপুর রাবার বাগান এলাকায় বসবাসরত একটি গারো পরিবার নতুন একটি ঘর তোলার উদ্যােগ নিলে বাগান কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন। গত সোমবার

মধুপুরে গারো পরিবারকে ঘর নির্মাণে বাধা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতাদের ক্ষোভ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি গারো পরিবারকে ঘর নির্মাণে বাধা দিয়েছে রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ। এ সময় সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রাইফেল তাক করে নারীসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (ভাইরাল)। আজ বুধবার মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা এ ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় লোকজন জানান, মধুপুরের চাঁদপুর রাবারবাগানের কালো পাহাড় এলাকায় রমেন কুবি ও শিবলী মাংসাং দম্পতি বসবাস করেন। গত সোমবার তাঁরা সেখানে আরও একটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন রাবারবাগানের মাঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েকজন আনসার সদস্য গারো দম্পতির নির্মাণকাজে বাধা দেন। তাঁরা ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন। এ সময় আনসার সদস্যদের সঙ্গে ওই পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে আনসার সদস্যদেরকে গারো পরিবারের এক নারী সদস্যের দিকে রাইফেল তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ এবং ভুক্তোভোগী রমনে কুবি ও শিবলী মাংসাং দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ ওই পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলে জানান ইউএনও।

ইউএনও মির্জা জুবায়ের হোসেন জানান, ঘর নির্মাণের জন্য ওই পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইউএনও এবং ওসিকে না জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান না চালাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রমেন কুবি জানান, তাঁদের পরিবারের ১৩ সদস্য সেখানে বসবাস করেন। ছোট একটি ঘরে বসবাস করা খুব কষ্ট হয়। তাই নতুন একটি ঘর তৈরির উদ্যোগ নেন। তখন রাবার বাগানের কর্মকর্তারা আনসার নিয়ে এসে ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন এবং তাঁদের লাগানো কয়েকটি গাছও কেটে ফেলেন।

বুধবার মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা রমেন কুবির বাড়ি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন করে এসে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, মধুপুরের গারোসহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমির সমস্যার সমাধান হয়নি। তাই সব সময় উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকতে হয়। রমেন কুবির পরিবারের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা খুবই নিন্দনীয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি বন এলাকায় বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যা সমাধানের দাবিও জানান।

আবিমা সংস্কৃতি উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি অজয় এ মৃ বলেন, মধুপুরে বসবাসরত আদিবাসীদের জমি চিহ্নিত করে তাঁদের ভূমির অধিকার দিতে হবে। তা না হলে উচ্ছেদ আতঙ্ক থেকেই যাবে। রমেন কুবির পরিবারের সঙ্গে যে ঘটনা হয়েছে, এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর কারও সঙ্গে না হয়, সেদিকে বন বিভাগ, রাবারবাগান কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি রাখতে হবে।

চাঁদপুর রাবারবাগানের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমান জানান, কাউকে তাঁরা উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেননি। বাগানের জমিতে নতুন করে ঘর তুলতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় আনসার সদস্যদের ওপর হামলা করা হয় এবং অশ্লীল গালাগাল করে। তখন আনসার সদস্যরা তাঁদের অস্ত্র তাক করেছিলেন। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।