চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। সোমবার বিকেলে
চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। সোমবার বিকেলে

চুয়াডাঙ্গায় শফিকুর রহমান

চব্বিশের বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে, এবারকার বিপ্লব হবে ব্যালটের মাধ্যমে

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ’২৪–এর ৫ আগস্ট যেমন একটি বিপ্লব হয়েছিল, আবার ’২৬–এর ১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটা বিপ্লব ঘটাতে হবে। ২৪–এর বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে, এবারকার বিপ্লব হবে ব্যালটের মাধ্যমে, দেশে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করার জন্য দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য, আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য, চাঁদাবাজি এবং হয়রানিমূলক রাজনৈতিক পুরোনো ব্যবস্থাকে তছনছ করে দেওয়ার জন্য।

আজ সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার টাউন ফুটবল ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এ কথা বলেন। বক্তব্য শেষে তিনি চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে ১১–দল মনোনীত প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং সবার কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।

সবাইকে স্মরণ করিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একটি হচ্ছে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট, দ্বিতীয়টি হচ্ছে পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষের ভোট। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। তার মানে হলো ভোটের বুথে ঢুকে প্রথমে শক্ত করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ জিতে গেলে বাংলাদেশ জিতবে। ‘হ্যাঁ’ জিতে গেলে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। ‘হ্যাঁ’ জিতে গেলে দুর্নীতিবাজ আর চাঁদাবাজের কবর রচিত হবে। আর ‘হ্যাঁ’ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।

জামায়াতের আমির উপস্থিত নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে জানতে চান, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, টেন্ডারবাজ এই চুয়াডাঙ্গাকে গিলে খাক আপনারা কি চান? প্রত্যুত্তরে সবাই একবাক্যে ‘না’ বলেন। এরপর তিনি বলেন, ‘১১ দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দুর্নীতিবাজকে লাল কার্ড, চাঁদাবাজকে লাল কার্ড, দখলবাজকে লাল কার্ড, তুমি আমার মায়ের ইজ্জত রক্ষা করো নাই, তোমাকেও লাল কার্ড; তুমি শিশু, আবাল, বৃদ্ধকে সম্মান করো না, তোমাকেও লাল কার্ড, এ দেশে ফ্যাসিজমকে লাল কার্ড, চিরতরে লাল কার্ড।’

আজকের যুব সমাজ আর বস্তাপচা রাজনীতি দেখতে চায় না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘৫৪ বছর যে রাজনীতি বাংলাদেশকে অন্ধকার গলিতে ঢুকিয়ে দিয়েছে, কোনো কোনো রাষ্ট্রের তাঁবেদারি করেছে, আমরা আর ওই বাংলাদেশ দেখতে চাই না। আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, ওসমান বিন হাদিরা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করেনি। যে দেশের মায়েরা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, ওসমান বিন হাদির মতো সন্তানের জন্ম দেয়, সেই দেশবাসীকে ভয় দেখাবেন না। আজকে যুবকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে পুরোনো ও নতুন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তার প্রমাণ রেখেছে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় (ছাত্র সংসদ নির্বাচন)। আমরা নিশ্চিত বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচনের একই চিত্র ফুটে উঠবে।’

চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। রোববার বিকেলে

আগামী নির্বাচনে সরকার গঠনের আশাবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি এই দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে এ দেশের মালিক বনতে চাইব না। আমরা ইনশা আল্লাহ এ দেশের সেবক হব। কথা দিচ্ছি, আমাদের কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। আমরা বাড়তে দেব না। আমরা বলব, যারা নিজেরটা উজাড় করে দেশবাসীর সেবা করার সাহস রাখো, তারাই শুধু আসো, আর কারও আসার দরকার নাই।’

যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তোমাদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসেবে তৈরি করে তোমাদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। তোমরা যদি চিৎকার দিয়ে বুক ফুলিয়ে বলতে পারো, আমরা এ দেশের গর্বিত নাগরিক।’

জেলা জামাতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১–দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদ পারভেজ।

জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুব সদস্যসচিব মোল্লা মো. ফারুক এহসান, এবি পার্টির জেলা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক তানভীর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি জুবায়ের খান, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের দামোদর উপজেলার শাখার সদস্যসচিব মনোরঞ্জন দাস, জামায়াতে ইসলামী জেলা নায়েবে আমির মো.আজিজুর রহমান প্রমুখ।