
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর কিশোরীকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে অপহরণের পর হত্যার বিষয়ে তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এখনো কিছু বলেননি। দিনাজপুর হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। এ মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাত নয়টার দিকে গাজীপুরের মাওনা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গ্রেপ্তার করেন নরসিংদী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার একটি শর্ষেখেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা। এ ঘটনায় নূরসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, কিশোরীকে হত্যার রাতে এলাকা ছেড়ে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা আত্মগোপনে চলে যান। ওই রাতে তিনি পাঁচদোনা এলাকায় বোনের বাড়ি যান। পরদিন তাঁদের সহযোগিতায় গাজীপুরের মাওনা এলাকার আরেক স্বজনের বাড়ি চলে যান তিনি। তাঁকে পাঁচদোনায় অবস্থান করতে নিজের চোখে দেখেছেন এমন একজন ঘটনাটি গতকাল বিকেলে নরসিংদী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনকে জানান। তিনি তখনই পাঁচদোনার ওই বাড়িতে অভিযান চালান।
বাড়ির লোকজন প্রথমে অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে বলেন, নূর এখানে ছিলেন, তবে দুপুরে গাজীপুরে চলে গেছেন। পরে তাঁদের সঙ্গে নিয়েই গাজীপুরের মাওনায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি নূর দৌড়ে পালান। পরে জঙ্গলের ভেতর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর সে আমাদের জানায়, দিনাজপুর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। এর আগেই আমরা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। রাতেই নূরকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
এলাকার মানুষের ভাষ্য, নূর এলাকায় একজন বখাটে হিসেবে পরিচিত। তিনি মাদক সেবন, ইভ টিজিংসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কখনো টেক্সটাইল মিলের ভ্যান, কখনো রিকশা চালিয়ে উপার্জন করতেন তিনি।