
গলায় মোটা চেইন, চকচকে কালো রং আর বিশাল দেহ—দেখলেই গরুটির দিকে চোখ আটকে যায়। প্ল্যাকার্ডে পরিচয় লিখে সামনের একটি বাঁশে ঝোলানো হয়েছে ‘কমিশনার’ নামটি। ময়মনসিংহ নগরের জয়নুল আবেদিন উদ্যানসংলগ্ন সার্কিট হাউস মাঠের অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে তোলা হয়েছে ষাঁড়টি। ঈদের আগে হাটের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এটি।
আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া একটার দিকে হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিশালাকৃতির ষাঁড়টিকে ঘিরে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ দাম জিজ্ঞেস করছেন। গরুটির পাশে ঝুলছে কমিশনার লেখা একটি প্ল্যাকার্ড।
প্রায় তিন বছর ধরে ষাঁড়টিকে নিজের খামারে লালন-পালন করেছেন ময়মনসিংহ নগরের ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল। তাঁর খামারটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা এলাকায় অবস্থিত। সেখানে আরও ১৫ থেকে ২০টি গরু আছে। এবার সার্কিট হাউস মাঠের হাটে তিনি তিনটি ষাঁড় এনেছিলেন। এর মধ্যে ‘মটু’ ও ‘চমচম’ নামের দুটি ষাঁড় গতকাল সাড়ে চার লাখ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে কমিশনারের দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পেলেই বিক্রি করবেন।
ষাঁড়টির নাম কমিশনার রাখার কারণও জানান জুয়েল। তাঁর ভাষ্য, গরুটি একটু অলস প্রকৃতির। খাওয়া ছাড়া বেশির ভাগ সময় শুয়ে থাকে। এ কারণেই মজা করে নাম রাখা হয়েছে কমিশনার।
খামারি জুয়েল বলেন, তিন বছর ধরে গমের ভুসি ও ঘাস খাইয়ে ষাঁড়টি পালন করা হয়েছে। মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ওষুধ, রাসায়নিক উপাদান বা গবাদিপশুর ফিড ব্যবহার করা হয়নি। ইতিমধ্যে গরুটির দাম সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ১৫২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। সার্কিট হাউস মাঠের এই অস্থায়ী হাট চলবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশু আছে ২ লাখ ৪ হাজার ১৪৮টি। এর বিপরীতে জেলার চাহিদা ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৬টি। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় ৪৪ হাজার ৮৮২টি পশু উদ্বৃত্ত আছে। প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৭টি গরু। এ ছাড়া আছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬৬টি ছাগল, ৫ হাজার ৩৪৪টি ভেড়া ও ৮৮৬টি মহিষ।
ঈদ সামনে রেখে জেলার পশুর হাটগুলোতে এখন জমে উঠেছে বেচাকেনা। তবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, ঈদ ঘিরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকে পশুর স্বাস্থ্যসেবা ও বাজার ব্যবস্থাপনা। এ জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। পুরো জেলায় ৫৬টি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা ও হাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পশুবাহী গাড়ি যাতে কোথাও আটকে না থাকে বা হয়রানির শিকার না হয়, এ জন্য পুলিশ তৎপর আছে। পাশাপাশি জাল টাকার বিস্তার ও অপরাধী চক্রের অপতৎপরতা ঠেকাতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।