
জয়পুরহাটে চালককে হত্যা করে রিকশা ছিনতাইয়ের মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০ বছর আগের ওই ঘটনায় আরেকটি ধারায় একই আসামিদের আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় জেলা ও দায়রা জজ নুর ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দুই আসামি অনুপস্থিত ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের হিচমী পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবদুল বারিকের ছেলে মো. জুয়েল (৪০) এবং সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম (৪২)।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদরের মাগনীপাড়ার জালাল উদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন (১৫) জেলা শহরে রিকশা চালাতেন। ২০০২ সালের ২৯ জুন দুপুরে ফারুক বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। পরে আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। ১ জুলাই ফারুকের বাবা জানতে পারেন, বম্বু কাদিরপুর গ্রামের রাস্তার পাশে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। সেখানে গিয়ে তিনি ফারুকের লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় আক্কেলপুর থানার পুলিশ জুয়েল ও মাহমুদুল নামের দুজনকে রিকশাসহ আটক করে। থানায় গিয়ে জালাল উদ্দিন রিকশাটি ফারুকের বলে শনাক্ত করেন। তিনি বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় ওই দুজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
জয়পুরহাট জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, আদালতে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বিচারক আজ রায় দিয়েছেন। বিচারক দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই মামলায় আরেকটি ধারায় ওই দুই আসামিকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।