হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার পর এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে শহরের সোনালী ব্যাংকের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। বাইরে পুলিশের তৎপরতা। ২৮ জুলাই সন্ধ্যায়
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার পর এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে শহরের সোনালী ব্যাংকের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। বাইরে পুলিশের তৎপরতা। ২৮ জুলাই সন্ধ্যায়

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদল নেতা মুজাক্কির হোসেন, ছাত্রদল নেতা এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমূল হোসেন ও রক্সি ইসলাম।

প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর জখম, চুরি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

মামলার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদের ভাষ্য, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের শিকার হন তাঁরা। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে তাঁর দাবি।

চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে পুলিশের ব্যারিকেড

গত মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করে এনসিপি। সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় এনসিপি এবং বিএনপি ও ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

হবিগঞ্জের ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় এনসিপির নেতাদের বাধা দেয় পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায়

বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পরে শহরে প্রবেশ করতে না পেরে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং রাতে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি করা হয়েছে।

১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

এদিকে এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা ১৪৪ ধারা আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বুধবার জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ এ আদেশ জারি করেছিলেন।

জেলা প্রশাসক আজ সকালে প্রথম আলোকে জানান, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।