
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম ফারুকসহ ১১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী এজাহারে নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মামলায় এই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে আশাদুল প্রধান নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ প্রথম আলোকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম ফারুক, রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান, যুবদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মাসুদুর রহমান, থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ, কাঞ্চন পৌর যুবদলের সদস্যসচিব মো. কোহিনুরসহ ৩৮ জনের নাম আছে। আসামিরা প্রত্যেকেই বিএনপির নেতা-কর্মী বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ওই ছাত্রলীগ কর্মী বলেছেন, গত রোববার রাত আটটার দিকে তিনি মোটরসাইকেলে করে উপজেলার রূপসী থেকে কাঞ্চনে যাচ্ছিলেন। ভুলতা এলাকার গোলাকান্দাইল–কাঞ্চন সড়কে পৌঁছে তিনি দেখেন, সেখানে গোলাম ফারুকের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৭০-৮০ জন নেতা–কর্মী লাঠিসোঁটা, রড ও এসএস পাইপ নিয়ে মিছিল করছেন। এ সময় মিছিলকারী ব্যক্তিরা তাঁকে দেখার পরপরই তাঁর মোটরসাইকেল আটকে তাঁকে মারধর করেন। মারধরে তাঁর হাতের কবজি ভেঙে যায়। পরে আসামিরা তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ করে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তবে রোববার রূপগঞ্জে বিএনপি কোনো মিছিল বা সমাবেশ করেনি বলে দাবি করেছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম ফারুক।
এর আগে গতকাল বিকেলে থানায় অভিযোগ দেওয়ার আগে আশাদুলের সঙ্গে প্রথম আলোর এ প্রতিনিধির কথা হয়। ঘটনার সময় তিনি কাউকে চিনতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘তারা সবাই মুখোশ পরা ছিল। কারও মুখ দেখিনি। একজনের কণ্ঠস্বর শুনেছি। আবার শুনলে চিনতে পারব।’
আশাদুলের এমন বক্তব্যের পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়। মামলায় ৩৮ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নাম, ঠিকানা ও কয়েকজনের দলীয় পরিচয় উল্লেখ করা হয়।
মুখ না দেখেও কীভাবে মামলার এজাহারে ৩৮ জন নেতা-কর্মীর পরিচয় উল্লেখ করেছেন, জানতে চাইলে আশাদুল এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় সড়কে একটি মোটরসাইকেল পুড়ছিল। স্থানীয় লোকজন তা মুঠোফোনে ভিডিও করছেন।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম ফারুক বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের জন্য নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জেলা। সমাবেশ বাতিল করতে গত ১২ দিনে জেলায় ৬টি গায়েবি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৮৫ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ ছাড়াও ৪১০-৫৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুরোনো গায়েবি মামলায় আগাম জামিন নিয়ে রাখায় পুলিশ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। এ কারণে আওয়ামী লীগ নিজেরাই পুরোনো মোটরসাইকেল পুড়িয়ে একটি সাজানো মামলা করেছে। রোববার রূপগঞ্জে আমরা কোনো মিছিল-সমাবেশ করিনি।’