রোডমার্চ শেষে সমাবেশ

আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে: নজরুল ইসলাম খান

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় রোডমার্চ শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শনিবার বিকেলে উপজেলার শিয়ালকাঠী চৌরাস্তায়
ছবি: প্রথম আলো

আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগের পর নির্বাচন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আজ শনিবার বিকেলে পিরোজপুরে বিএনপির দক্ষিণাঞ্চলীয় রোডমার্চ কর্মসূচি শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে। শুধু বিএনপি নয়, দেশের সব গণতান্ত্রিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে গণতন্ত্র হত্যা করে। আর বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যত কাজ সব আওয়ামী লীগ করেছে।

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল থেকে রোডমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়। বরিশাল নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যান থেকে শুরু হয়ে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড হয়ে রোডমার্চটি ঝালকাঠি এলজিইডি মোড়, রাজাপুর হয়ে পিরোজপুরের শিয়ালকাঠি এলাকায় সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।

সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০০৬ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বলেছিল, বিচারপতি কে এম হাসান বিএনপির লোক। ১৯৭৮-৭৯ সালে কে এম হাসান বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। ২৬ বছর আগে বিএনপি করলে তাঁর অধীনে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়। তাহলে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী থাকলে তাঁর অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কেমনে? আওয়ামী লীগ ও জামায়াত ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করেছিল। আমরা মেনে নিয়েছিলাম।’

পিরোজপুরে বিএনপির রোডমার্চ কর্মসূচিতে গাড়িবহর নিয়ে অংশ নেন দলের নেতা-কর্মীরা। শনিবার বিকেলে কাউখালী-রাজাপুর-ঝালকাঠি সড়কে

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশাল করেছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন। এরশাদ সামরিক শাসন দিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ৯ বছর সংগ্রাম করে গণতন্ত্র এনেছিল। আমরা বর্তমানে অনির্বাচিত-অবৈধ সরকারের অধীনে আছি। এই সরকার আমরা মানি না। এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনো দাবি মানবে না। এ জন্য সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।’

রোডমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির দলনেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করা যায় না। এ জন্য তাঁর অধীনে নির্বাচন করা যাবে না। বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচন হবে না। আমরা হতে দেব না। একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে সারা দেশে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা শেখ হাসিনা বিপন্ন করেছেন। এই বিপন্ন স্বাধীনতা উদ্ধার করতে হবে।’

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার ও হারুন অর রশিদ, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহবুবুল হক, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপি দক্ষিণাঞ্চলীয় রোডমার্চ কর্মসূচি পালন করে। বৃষ্টিতে ভিজে দূরদূরান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রোডমার্চ করে বিএনপি। বরিশাল নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে রোডমার্চ শুরু হয়

রোডমার্চে অংশ নেওয়া মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, হাজার হাজার নেতা-কর্মী ৫০ কিলেমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রোডমার্চে অংশ নিয়েছেন।