কুপিয়ে জখম
কুপিয়ে জখম

পাবনায় জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির পাল্টা মিছিল

পাবনায় রমজান আলী নামের জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার সদর উপজেলার হিমাইতপুরের চর শিবরামপুরে এ ঘটনা ঘটে।

জামায়াতের অভিযোগ, বিএনপির কর্মীরা রমজান আলীকে কুপিয়ে জখম করেছেন। এর প্রতিবাদে দলটির নেতা-কর্মীরা আজ রোববার দুপুরে জেলা শহর ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। তবে বিএনপি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে।

আহত রমজান আলী বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সদর উপজেলার হিমাইতপুর ইউনিয়নরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং চর শিবরামপুর ভোটকেন্দ্রের পরিচালক। গতকাল শনিবার রাতে তিনি ভোটের প্রচার শেষে মসজিদে নামাজ পড়ে বের হচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পাবনা শহরের শহীদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় দলটির নেতা-কর্মীরা হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পাবনা পৌর জামায়াতের আমির আবদুল লতিফ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি রেজাউল করিম, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা ও সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল আইনুল।

এদিকে জামায়াতের অভিযোগের প্রতিবাদে একই সময়ে শহরে বিক্ষেভ মিছিল বের করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আসে। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগের প্রতিবাদ জানান বিএনপির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত মিথ্যাচার করছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে, এতে আমরাও মর্মাহত। তবে ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন। পারিবারিক ও জমিজমা–সংক্রান্ত বিষয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা এই মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’