
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের দেশে একটা হতাশাবাদী গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। তারা ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে চাইছে। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। আমরা কেউ চাই না দেশে আর কোনো গোলযোগ হোক।’
আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও নওগাঁ জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল, আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিল, তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়ায় করেই আমরা আজ এই অবস্থাতে এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে।’
শত বছর পরও রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আজ থেকে শত বছর আগে যে ভাবনা ও উদ্যোগ নিয়েছিলেন, আমরা আজ সেগুলো নিয়ে ভাবছি। বিশ্বকবি আজও প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্রনাথ পতিসরে যখন আসতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ–দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন। যে মানুষ সাহিত্যচর্চা করে, কবিতা শোনে, কবিতা লিখে অথবা যে মানুষটি গান শোনে, গান গায়, সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়। তাই ভালো মানুষ হতে হলে আমাদের সাহিত্যচর্চা করতে হবে।’
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি, সারা জীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছি। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি। আমি শুধু বলতে চাই, আমাদের যে মূল জায়গাটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, আমাদের যে স্বকীয়তা, আমাদের যে স্বতন্ত্র পরিচয় যে আমরা বাংলাদেশি—এই কথা আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। ৯ মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি লড়াই করেই।’
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী ও নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ।