
বগুড়ার শেরপুর থানার ‘ডিউটি অফিসার’ হিসেবে দায়িত্বে থাকা এক নারী উপপরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় নূর মোহাম্মদ (৩০) নামের এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত এসআইয়ের নাম রোকসানা খাতুন। তিনি প্রায় এক বছর আগে শেরপুর থানায় যোগদান করেন। ঘটনার পর এসআই রোকসানার আচরণের বিষয়ে পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন। আর ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ ওরফে মামুন বলেন, তাঁর এক পরিচিত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে থানায় আছেন। কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটা জানতে তিনি আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে থানায় আসেন। তখন দায়িত্বরত এসআই রোকসানা খাতুনকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে কথা বলতে গেলে তিনি রেগে যান। একপর্যায়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন। পরে কোনো অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে আটক করেন। তাঁকে অন্তত দেড় ঘণ্টা থানার নারী হেল্পডেস্কের কক্ষে আটক করে রাখা হয়।
নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক। তাঁর বাড়ি উপজেলার সাধুবাড়ী এলাকায়। থানায় ওই কক্ষে আটক থাকা অবস্থায় তিনি মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে বড় ভাই মো. মাসুদসহ আত্মীয়স্বজন থানা চত্বরে আসেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মুচলেকায় কী লেখা ছিল, তাঁরা জানেন না বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই রোকসানা খাতুন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, নূর মোহাম্মদ নামের ওই যুবক থানায় এসে কী ধরনের আচরণ করেছেন, তার সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা আছে। ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যোগাযোগ করলে শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, এসআই রোকসানা খাতুন ২০২৫ সালের মার্চ বা এপ্রিল মাসে শেরপুর থানায় যোগদান করেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় আসা লোকজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আগেও পেয়েছেন। তখন তাঁকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। আজ সকালে ওই যুবককে থানার নারী হেল্পডেস্কের কক্ষে আটকের ঘটনা তিনি শুনেছেন। ঘটনা শুনে তিনি থানায় এসে ওই যুবকের নিকটাত্মীয়দের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছেন। এসআই রোকসানার এই আচরণের বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন। তিনি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।