চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রশিবির মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ বুধবার দুপুরে এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি করেন সংগঠনটির সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান। এর আগে গতকাল রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাখা ছাত্রশিবির দাবি করে, চাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে ছাত্রদল।
যৌথ বিবৃতিতে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক বলেন, চাকসু নিয়ে ছাত্রশিবিরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ডাহা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার। ছাত্রদল বহুদিন ধরে চাকসু নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে। চাকসু নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে হোক, দৃঢ়ভাবে এটি চায় ছাত্রদল। এ কারণে চাকসুর গঠনতন্ত্রে যৌক্তিক সংস্কার আনার দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্রদল।
গত সোমবার স্মারকলিপি দিয়ে ও গতকাল মঙ্গলবার মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি করেছে ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত এই দুজন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। একটি সংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন। এরপর বিবৃতি দিয়ে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ছাত্রশিবির।
ছাত্রদলের বিবৃতিতে এ বিষয়ে বলা হয়, ‘বিগত এক বছর প্রক্টরের বিতর্কিত ভূমিকা রয়েছে। নিজের পছন্দের সংগঠনকে সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়েছেন এবং ওই সংগঠনের হয়ে বহুবার প্রচারাভিযানে অংশ নিয়েছেন। অপরদিকে রেজিস্ট্রারের নানা দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে তিনি ছাত্রদলকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি তাঁর উগ্রতা ও একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আমরা তাঁর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং পদত্যাগ দাবি করছি। কারণ, আস্থাহীন ও দলবাজ রেজিস্ট্রার এবং প্রক্টরকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রেখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়।’
ছাত্রশিবিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ছাত্রদলের সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির দাবিকে ছাত্রশিবির বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। বাস্তবে ছাত্রশিবিরই নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে সংগঠনটি ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে। প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের পক্ষ নেওয়া প্রমাণ করে যে নির্বাচন নিয়ে তাদের দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা রয়েছে।’
ছাত্রদলের এসব অভিযোগ যুক্তিহীন বলে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রশিবিরকে প্রশাসন কোনো আলাদা সুবিধা দেয়নি। প্রক্টর ছাত্রদের উৎসাহ দিতে আমাদের প্রোগ্রামে এসেছিলেন।’