
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় কোনো সংগঠনের সমর্থন ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটি অংশ মিলে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ নামে প্যানেল গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ২৩টি পদের মধ্যে ১৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই প্যানেলের প্রার্থীরা।
এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন পেট্রোলিয়াম ও খনি প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুহয়ী শারদ। জিএস পদে লড়ছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের একই বর্ষের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ও এজিএস পদে অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুর ইসলাম। তিন প্রার্থীই সরাসরি দলীয় কোনো পদে যুক্ত নন।
ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ ক্যাম্পাসে সমকালীন আন্দোলনের সামনে থেকে যুক্ত ছিলেন। বিতার্কিক হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত তিনি। দলীয় প্রভাবমুক্ত ক্যাম্পাসের জন্য তিনি শুরু থেকেই সরব ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার সাবেক আহ্বায়ক।
জিএস পদে মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহ খাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন। বাস ট্র্যাকিং অ্যাপ বানিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিতি পান।
এ ছাড়া এজিএস পদে হাফিজুর ইসলাম শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সরব ভূমিকা রেখেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা আছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন।
প্যানেলে বিগত জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া নারী প্রার্থী, ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী, সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসে পরিবেশ ও প্রাণীদের জন্য কাজ করা সংগঠনের সদস্য, বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী, আঞ্চলিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষামূলক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব, শিশু ও নারীদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীদের প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে প্যানেলে বৈচিত্র৵ আছে। যিনি যে বিষয়ে যোগ্যতার ছাপ রেখেছেন, তাঁকে সেই পদে প্রার্থী করা হয়েছে।
প্যানেলের প্রার্থীরা নিজেদের অন্যতম শক্তি হিসেবে মনে করছেন, তাঁদের কারোরই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ততা নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোট টানতে এটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তাঁরা। এ ছাড়া সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রার্থী ও প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি কাজ করবে। প্রশাসনকে প্রশ্ন করতে দলীয় পিছুটান থাকবে না বলে তাঁরা মনে করেন।
ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদকে সুইটি আক্তার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ভূমিকা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আরমান হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পিকার্স ক্লাবের সভাপতি, শিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার সম্পাদক পদে রবিউল হোসেন শিক্ষার্থীদের অধিকার আন্দোলনে ভূমিকা রাখাসহ ১৭ প্রার্থীই নানাভাবে শিক্ষার্থীদের কোনো না কোনো অংশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
প্যানেলের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। শীর্ষপদের কয়েকটিতে প্রার্থীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিতি কম বলে আলোচনা আছে। এ ছাড়া দলীয় কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় সেখানে সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে। সংঘবদ্ধভাবে কাজ করা ও প্রচারণার ক্ষেত্রেও ঘাটতি আছে। এ ছাড়া ‘ফান্ডিং কম’ থাকায় অন্যদের মতো ডিজিটাল প্রচারণাও ঘাটতি আছে। তবে এসবকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে প্রার্থীরা ট্যাগিং-বুলিংয়ের শিকার হওয়ার শঙ্কাকে বড় করে দেখছেন।
প্রথম আলো: শিক্ষার্থীরা আপনাদের কেন ভোট দেবে?
মুহয়ী শারদ: প্রথমত, আমাদের প্রধান লক্ষ৵ ছিল একটি লেজুড়বৃত্তিমুক্ত প্যানেল গঠন। তাই ক্যাম্পাসে আন্দোলন– সংগ্রামে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি যাঁরা বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সব সময় যুক্ত, তাঁদের নিয়ে প্যানেল করেছি। এ কারণে শিক্ষার্থীরা আমাদের ভোট দেবেন বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমরাই একমাত্র সম্পূর্ণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্যানেল, যেখান থেকে কোনো ‘রাজনৈতিক এজেন্ডা’ নয়; বরং শাবিপ্রবির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়িত হবে। তাই শিক্ষার্থীরা আমাদেরই বেছে নেবে।
প্রথম আলো: সব পদে প্রার্থী দিতে না পারার কারণ কী?
মুহয়ী শারদ: প্যানেলে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি, সার্বিকভাবে এ রকম প্রার্থী নিয়েও কিছু নির্দিষ্ট পদের জন্য নিদিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন প্রার্থী প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। তাই বেশ কিছু পদে আমরা প্রার্থী দিইনি।
প্রথম আলো: প্যানেলের ‘ভোটব্যাংক’ কারা হতে যাচ্ছে?
মুহয়ী শারদ: ভোটব্যাংক বলতে সব সাধারণ শিক্ষার্থীই আমাদের ভোটার, যাঁরা শাবিপ্রবির ভালো চান, সাস্টিয়ানদের ভালো চান।
প্রথম আলো: নারী ভোট কেমন প্রত্যাশা করছেন?
মুহয়ী শারদ: সব সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকেই আমরা ভালো ভোটের আশা করছি। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটবে বলে ভাবছি না। দিন শেষে সবাই সাস্টিয়ান!
প্রথম আলো: পরাজিত হলে কি অধিকার আদায়ের আন্দোলন কিংবা কথা বলা থেমে যাবে?
মুহয়ী শারদ: শাকসুতে যাঁরাই জিতুক, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দিন শেষে সাস্টিয়ানদের জয় হবে। হারজিত যা–ই হোক, যত দিন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আছি সাস্টিয়ানদের যৌক্তিক আন্দোলনে নিজের অবস্থান থেকে সব সময় কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাব।