বাগেরহাটে‌ স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জায়গায় আগুন নেভাতে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। রোববার বিকেলে
বাগেরহাটে‌ স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জায়গায় আগুন নেভাতে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। রোববার বিকেলে

বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রস্তাবিত হাসপাতালের জায়গায় আগুন

বাগেরহাটের তিনটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের (ঘোড়া মার্কা) প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার বিকেলে শহরের স্টেডিয়াম–সংলগ্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিজস্ব জমিতে থাকা কয়েকটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় আগুন দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে।

আগুন লাগার জায়গাটিতে সেলিমের বাবার নামে করা‌ বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন ও অধুনালুপ্ত দৈনিক দক্ষিণ কণ্ঠ পত্রিকার কার্যালয় ছিল। সম্প্রতি সেখানে তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করার ঘোষণা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পত্রিকা কার্যালয়ের ভেতরে ধোঁয়া দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি স্থানে আগুন দেখা যায়। আগুনে সেখানে থাকা একটি স্পিডবোট ও কিছু গাছপালা পুড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বাগেরহাট স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, খবর পাওয়ার পরই তাঁদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সেলিমের সমর্থকদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান (প্রিন্স) অভিযোগ করে বলেন, ‘বাগেরহাটবাসীর জন্য একটি মেডিকেল কলেজ করা আমাদের স্বপ্ন ছিল। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যা আমরা করতে পারিনি। সম্প্রতি এর জন্য মাটি পরীক্ষারসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা হয়েছে। এখানে হাসপাতালের একটি সাইনবোর্ডও দেওয়া হয়। দেওয়ালঘেরা থাকলেও এর ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে।’

মেহেদী হাসান দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব করছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ আগুন দিয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, কর্মীদের হুমকি, অফিস দখল ও হামলা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েও আমরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’

বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। বাগেরহাট ১, ২ ও ৩ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

এর আগে বাগেরহাট ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা–কর্মীরা ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা, নির্বাচনী কার্যালয় দখল, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ করে দুই দফা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সেলিম ও তাঁর সমর্থকেরা।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়েছি। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু হয়েছে।’