অর্থ পাচার মামলায় ফরিদপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কারাগারে

সিদ্দিকুর রহমান
ফাইল ছবি

অর্থ পাচার মামলায় ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা ২টার দিকে এ আদেশ দেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আকবর আলী শেখ।

এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিনে ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগে তিনি ফরিদপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

৯ আগস্ট সিদ্দিকুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচজনকে আসামি করে ১০০ কোটি ৫২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ফরিদপুর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিদর্শক নাসিরউদ্দিন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী/ ২০১৫)–এর ৪ (২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন ওরফে বাবর, খন্দকার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক এপিএস এ এইচ এম ফোয়াদ, খন্দকার মোশাররফের অনুসারী শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত ও সাজ্জাদের ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেল।

সিদ্দিকুর রহমান ছাড়া অপর চারজন ২০২০ সালের ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় সিআইডির দায়ের করা আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

সিদ্দিকুর রহমানের আইনজীবী বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি প্রথম আলোকে জানান, মামলার পর সিদ্দিকুর রহমান ১৩ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে চার সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চান। ওই সময়কালের মধ্যে তাঁকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার আগেই সিদ্দিকুর রহমান আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকার কাফরুল থানায় সাজ্জাদ হোসেন ও ইমতিয়াজ হাসানের নামে আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে প্রথম মামলায় ১০ জনকে আসামি করে ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ৩৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই মামলায় প্রথম ১০ জনের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমানের নাম ছিল না। তবে পরে নতুন করে যে ৩৭ জনের নামে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়, এর মধ্য সিদ্দিকুর রহমানের নাম রয়েছে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এ সম্পূরক অভিযোগপত্র নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৭ জুন পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাড়ি থেকে বরকত-রুবেলসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার এক দিন পর ৯ জুন খন্দকার মোশাররফ ফরিদপুর ত্যাগ করেন। খন্দকার মোশাররফ বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে আছেন। ২০২০ সালের ২৬ জুন বরকত-রুবেলের নামে ঢাকার কাফরুল থানায় আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা হয়।