
ঢাকার কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ ইকুরিয়া জমিদারবাড়ি গ্রামের একই পরিবারের ছয়জন সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ওই এলাকার তিনটি গ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মশার ওষুধ ছিটানো হলেও এখন বন্ধ রয়েছে, তাই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত ইকুরিয়া সলিম বেপারীপাড়া, মুসলিমনগর ও জমিদারবাড়ি এলাকায় কমপক্ষে ১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে আছেন ইকুরিয়া জমিদারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ওয়াহেদুজ্জামানের (৫৮) পরিবারের ছয়জন। তাঁরা হলেন ওয়াহেদুজ্জামান নিজে, তাঁর স্ত্রী শামসুন্নাহার (৫০), ভাই নুরুজ্জামান (৬০), সাইদুজ্জামান (৫৫), হায়াতুজ্জামান (৬২) ও হায়াতুজ্জামানের ছেলে হানিফ জামান (২৮)।
ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘সম্প্রতি আমি ও আমার স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি। স্ত্রী বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরিবারের অন্যরাও চিকিৎসাধীন।’
হঠাৎ ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়া প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারের এই জনপ্রতিনিধি জানান, ইকুরিয়া বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কে দীর্ঘদিন পানি জমে আছে। ওই জলাবদ্ধ জায়গাগুলো মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সুয়ারেজ পাইপ ফেটে পড়া পানি থেকেও একই অবস্থা হচ্ছে। জলাবদ্ধতাই ডেঙ্গু মশা বাড়ার মূল কারণ। জলাবদ্ধতা দূর হলে এলাকা থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যেত। জনগণের স্বার্থে অতিসত্বর জলাবদ্ধতা নিরসন ও কচুরিপানা পরিষ্কার করা উচিত।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বেপারীপাড়া থেকে ইকুরিয়া বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, কচুরিপানা জন্ম নিয়েছে। কোথাও কোথাও পয়োনিষ্কাশনের পাইপ ফেটে পানি উপচে পড়ে জলাবদ্ধতা হয়েছে, ময়লা–আবর্জনার স্তূপও তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও ময়লা–আবর্জনা থেকেই মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মুসলিমবাগ গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আগে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মশার ওষুধ ছিটানো হলেও এখন বন্ধ রয়েছে। তাই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর মশা ও মাছির সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
ইকুরিয়া সলিম বেপারীপাড়ার গৃহবধূ সখিনা বেগম বলেন, গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণাধীন সড়কের পানি জমে আছে। সেখানে মশার ডিম দেখা যায়। কেউ পানি অপসারণ না করার কারণে দিন দিন মশার পরিমাণ বাড়ছে। মশা থেকে বাঁচতে বিকেল থেকেই ঘরের জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহনুর ইসলাম জানান, গতকাল রোববার রাতে একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। নির্জন এলাকায় সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। তিনি বলেন, ‘এই এলাকার অনেক রোগী পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। তাই আমাদের এখানে তুলনামূলকভাবে ভর্তি কম হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া–মহল্লায় স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতনতামূলক কাজ করে চলছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত।’