
মাগুরায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ মাস এবং ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম নূর আলি (৩৩)। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলা সূত্র জানা গেছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে নূর আলি ওই ছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করে উত্ত্যক্ত করতেন। পরে ওই ছাত্রীকে বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ২০১৪ সালের ৭ জুন সকালে ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হলে নূর আলী ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। নূর আলি ওই ছাত্রীকে মোটরসাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
ঘটনার দিনই ওই ছাত্রীর বাবা শ্রীপুর থানায় নূর আলির বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। দীর্ঘ আট বছর পর মামলার সাক্ষ্য–প্রমাণ শেষে আদালত তাঁকে উভয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলায় অন্য পাঁচ আসামিকে অব্যাহতি দেন আদালত।
তবে আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল আকবর কল্লোল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা একটা প্রেমঘটিত ব্যাপার। যে মেয়ের অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে যুবকের শাস্তি হয়েছে, তাঁরা দুজন গত সাত বছর ধরে সংসার করছেন। তাঁদের সন্তান রয়েছে। যখন ঘটনাটি ঘটে, তখন মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিল ঠিকই, কিন্তু এখন তাঁর বয়স ২৩।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি (কৌঁসুলি) আবদুর রাজ্জাক এটিকে দৃষ্টান্তমূলক রায় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নাবালক কোনো শিশুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে কৌশলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনাও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ রায় সমাজের জন্য একটি বার্তা’।