মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘরে ঢুকে আলমগীর হাওলাদার নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি। আজ মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের সামনে
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘরে ঢুকে আলমগীর হাওলাদার নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি। আজ মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের সামনে

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র ঘরে ঢুকে একজনকে কুপিয়ে হত্যা

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘরে ঢুকে আলমগীর হাওলাদার (৫৫) নামের একজনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ লোকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে নতুন মাদারীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার হাসান মুন্সির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে মনিরুজ্জামানের সমর্থক ও চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারের বসতঘরে ঢুকে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন। এ সময় আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়, বিচ্ছিন্ন করা হয় একটি হাত। বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা অখিল সরকার প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার ডান হাতের কব্জি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এছাড়া তার বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত আলমগীরের মা নূরজাহান বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘লভলু হাওলাদার, হাকিম ব্যাপারী সোহাগ ব্যাপারী, মাসুদ ব্যাপারী, শাওন হাওলাদারসহ আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। যদি এমপি জাহান্দার (মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য) চাইতেন, এই মারামারি মিটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। আমার চোখের সামনে আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। আমার বুক খালি করে দিল। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

আলমগীর হাওলাদার

আলমগীরের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। তার স্ত্রী রেখা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন এলাকা থাকতে পারেনি। তাকে এলাকা ছাড়া করেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিল। আমার সংসারের এখন কী হবে? কে দেখবে আমাদের?’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আলমগীরের বড় মেয়ে জয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আব্বু বাড়িতে ঢোকার পরই তাকে পাজায় ধরে কুপাইতে থাকে। আব্বু বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু বাঁচতে পারেনি। লাভলু হাওলাদারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন মিলে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আব্বুকে কুপিয়ে মেরেছে।’

জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলাকার আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। সব পুড়িয়ে দিয়েছে। আজ আমার আপন চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি বার বার লাভলু হাওলাদারকে অনুরোধ করেছি, এলাকায় মারামারি বন্ধ করতে। কিন্তু তিনি কারো কথা শোনেননি। তার কারণে তার নেতৃত্বে আজ আমার ভাই হত্যার শিকার হলো।’ লাভলু হাওলাদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এর আগেও বেশ কয়েকবার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আলমগীর হাওলাদারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ ব্যাপারী নামের একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।