চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকায় আপত্তি জানানোর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এ তালিকার যেকোনো ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
চাকসুর তফসিল অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার ভোটার তালিকার বিষয়ে আপত্তি জানানোর শেষ দিন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ও বর্তমান ক্যাম্পাস পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে।
তারিখ পরিবর্তনের এ বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন চাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী। বেলা ১১টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে আসছে না। এ অবস্থায় তাঁরা আপত্তিও জানাতে পারবে না। তাই আপত্তি জানানোর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গতকাল এক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে গত সোমবার চাকসু নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। এতে তালিকার বিষয়ে কারও কোনো আপত্তি থাকলে নিজ বিভাগে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। খসড়া তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে চাকসুর ভোটার ২৫ হাজার ৮৬৬ জন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হবে। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যাচাই-বাছাই হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে ২১ সেপ্টেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।
ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ শেষে শুরু হবে গণনা।
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে চাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার নির্বাচন হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ছাত্রসংগঠনগুলোর মুখোমুখি অবস্থান, কয়েক দফা সংঘর্ষ ও উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের কার্যালয় থাকলেও এটি এখন ক্যানটিন আর কমিউনিটি সেন্টার হিসেবেই ব্যবহার হচ্ছে। কর্মচারীদের সন্তানদের বিয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হয়েছে চাকসুতে। এমনকি গত ১ জুলাই চাকসু ভবনের নামফলকের ওপর ‘জোবরা ভাতের হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টার’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদে ৪৮টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৫০০ জন।