মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটা ও রোগীদের খাবার পরিবেশনে অসংগতির অভিযোগ পেয়ে হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এ অভিযান চালায়। অভিযানকালে হাসপাতালের রান্নাঘর, গুদামঘরসহ অন্ত ও বহির্বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।
অভিযান শেষে দুদক কর্মকর্তা ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে রোগীদের খাবার, চিকিৎসার পরিবেশ, ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটায় নানা ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলে তাঁদের কাছে অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁরা অভিযানে আসেন।
দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালের রোগীদের ব্যবহারের জন্য কম্বল কম দামে কিনে বেশি দাম দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। অভিযানকালে তাঁরা যেসব কম্বল দেখেছেন, প্রতিটি ২ হাজার ৪০০ টাকায় কেনা হয়েছে। কিন্তু এসব কম্বলের দাম তা হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। এ ছাড়া হাসপাতালের রোগীদের খাবারের জন্য ২২০ গ্রাম মাছের টুকরো বরাদ্দ থাকলেও পরিমাপ করে ১৫৫ গ্রাম পাওয়া গেছে।
ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ আরও বলেন, রোগীদের সঠিকভাবে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে না বলে রোগীদের অভিযোগ আছে। সেগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। গত ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রীসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কেনার দরপত্র (টেন্ডারের সব ডকুমেন্ট), ঠিকাদারদের নাম ও ঠিকানা, কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও কর্মস্থল সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এগুলো পেলে দুদকে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এসব কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে থাকলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে।
অভিযানকালে দুদকের সহকারী পরিচালক আরিফ আহমেদ ও উপসহকারী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার রায় এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সৌমেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।