রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এলোপাতাড়িভাবে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঈদগাহ মাঠ করার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে আজ বুধবার সকালে বিভিন্ন প্রজাতির কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নির্বিচারে নয়, গাছ ঘন হওয়ায় ও ঈদগাহ মাঠ করার প্রয়োজনে কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে, মন্দিরের স্থান, ছেলেদের হল ও বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা কিছুসংখ্যক গাছ কর্তনের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ সকাল থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের আম, মেহগনিসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ এলোপাতাড়িভাবে কাটা শুরু করেন ঠিকাদারের নিয়োজিত কর্মচারীরা। এ দৃশ্য দেখে বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ জানান ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের সামনে ছোট-বড় ৪৫টি কেটে ফেলা গাছ মাটিতে পড়ে আছে। এ সময় আমির হোসেন, রহমত আলী, নয়ন মিয়া, ওমর ফারুকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর।
নয়ন মিয়া বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বৃক্ষের জাদুঘর নামে পরিচিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন হাজার প্রজাতির গাছ রয়েছে। এই গাছগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য গরমের সময় কতটা উপকারী, সেটা সবাই জানে। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ১৮০টি গাছ কাটার এই হঠকারী সিদ্ধান্ত কেন প্রশাসন নিল, এর জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।’
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি খেলার মাঠ আছে। সেখানে ব্যবস্থা করে ঈদের নামাজ পড়া যায়। এ ছাড়া ঈদগাহ মাঠে নামাজের জন্য এলোপাতাড়ি গাছ কাটার প্রয়োজন ছিল না। তারা গাছ বিক্রির টাকা তছরুপ করতে এসব গাছ কেটেছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা গাছ কাটা বন্ধ করার পর বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমানসহ প্রকৌশল বিভাগের লোকজন সেখানে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানান ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ফেরদৌস রহমান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, এখানে গাছ কিছু কিছু জায়গায় ঘন আছে। যেগুলো অপুষ্টিতে ভুগছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেহেতু নামাজ পড়তে কষ্ট হয়, গাছগুলো বড় হচ্ছে না। সে জন্য নামাজের কাতার করতে যে গাছগুলো পড়ে, এগুলো কাটা হবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বক্তব্য মানছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গ্রিন ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সাকিব সরকার প্রথম আলোকে বলেন, পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গাছপালা নির্বিচারে কেটে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ অযৌক্তিক ও পরিবেশবিরোধী ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত। ক্যাম্পাসের গাছপালা কেবল সৌন্দর্য নয়, এগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ। পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। অবিলম্বে মসজিদ প্রাঙ্গণে গাছ কাটার কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।