খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাতুল শেখ (২২) নামের এক তরুণ আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের লবণচরা থানার আশিবিঘা বালুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন রাতুলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি লবণচরা থানার উত্তর হরিণটানা এলাকার বাসিন্দা শের আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে রাতুলসহ কয়েকজন আশিবিঘা এলাকার বালুর মাঠে ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন গিয়ে রাতুলকে মাঠে পড়ে থাকতে দেখেন। দুর্বৃত্তরা তাঁর ডান পায়ের ঊরুতে গুলি করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন রাতুলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কী কারণে তাঁকে গুলি করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ওই এলাকায় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। কোনো সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে এ ঘটনার সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আহত তরুণ কোনো একটি গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আবার নতুন কোনো গ্রুপ গঠনকে কেন্দ্র করেও এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি জানান, রাতুলের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এলাকায় তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ২৯ জুন রাতে নগরের গল্লামারী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি আহত হন।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম আলোচনায় এসেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা নগরে ১৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব ঘটনার পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পারস্পরিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে।