
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। উন্নত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সামান্য চাকরির জন্য এখানকার মানুষ রাজধানীতে ছুটছে। আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে কথা দিচ্ছি, ঘরে বসে আপনারা উত্তরবঙ্গকে রাজধানী বানাবেন ইনশা আল্লাহ। আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দেব না, বরং তাদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলব। এরপর তারা গৌরবের সঙ্গে দেশে বা বিদেশে সম্মানের সাথে কাজ করবে।’
আজ শনিবার বেলা ১১টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশ ও জাতি ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে নির্যাতিত হয়েছে। আমি নির্যাতিত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে এসেছি। যারা বাবা হারিয়ে কচি শিশু হিসেবে এতিম হয়েছে, তাদের কাহিনি শোনাতে এসেছি। আমি ১০ দলের পক্ষ থেকে তাদের সান্ত্বনা দিতে এসেছি। গত তিনটি নির্বাচনে আমাদের যুবসমাজ, সাধারণ জনগণ তাদের ভোট দিতে পারেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হচ্ছে। ১২ তারিখ শহীদদের সম্মান জানিয়ে, আমরা পুরানো ৫৪ বছরের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অত্যাচার প্রভৃতি দূর করার জন্য “হ্যাঁ” ভোট দেব ইনশা আল্লাহ। “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে জোয়ার তুলতে হবে এবং পুরানো সব ব্যবস্থা যাতে ভেসে যায়, সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা উত্তরবঙ্গকে পুরো ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় পরিণত করতে চাই। তবে কৃষকেরা দুই কারণে ন্যায্য মূল্য পান না—একটি. মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে এবং অপরটি. ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজদের কারণে। আমরা সেই চাঁদাবাজদের নির্মূল করব ইনশা আল্লাহ। ভয় পেয়ো না চাঁদাবাজ। তোমরাও এই সমাজের মানুষ। আমরা ইনশা আল্লাহ তোমাদের হাতেও সম্মানের কাজ তুলে দেব। তোমরাও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবা। সেদিন আর মুখ লুকিয়ে তোমাদের চলতে হবে না সমাজে। তোমাদের মা-বাপকে আর কেউ চাঁদাবাজের মা-বাপ বলবে না। আমরা পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তুলব। সব জায়গায় মেডিক্যাল কলেজ এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।’
নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক নেতা-কর্মী জেল খেটেছেন, হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছেন। প্রিয় দেশ ত্যাগ করেননি, কারণ তাঁরা এই মাটিকে ভালোবাসেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি এবং থাকব ইনশা আল্লাহ। মায়েদের জন্যও আমরা ঘরে-বাইরে সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই এবং আমাদের সঙ্গে তারা রাষ্ট্রের সকল কাজে শরিক থাকবেন ইনশা আল্লাহ।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘কর্মসংস্থানের জন্য এখানে ইপিজেড হওয়া জরুরি। আমরা অবশ্যই এদিকে মনোযোগ দেব এবং বালাসি ও বাহাদুরাবাদ ঘাটকে সেতু দিয়ে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাব।’
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. আবদুর করিম, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছ এবং গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির মাজেদুর রহমান।
সভা শেষে জামায়াতের আমির গাইবান্ধার পাঁচজন দলীয় প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হাতে পরিচয় করিয়ে দেন। শনিবার সকালে শফিকুর রহমান রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। পরে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় জনসভা করবেন। গতকাল শুক্রবার তিনি পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে জনসভা করেছেন।