মোট ১১টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনেই দলীয় প্রার্থীকে চাপে ফেলেছে স্ব-দলীয় বিদ্রোহীরা
মোট ১১টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনেই দলীয় প্রার্থীকে চাপে ফেলেছে স্ব-দলীয় বিদ্রোহীরা

ময়মনসিংহের ১১ আসন

বিদ্রোহীদের দাপট ময়মনসিংহে, চাপে দলীয় প্রার্থী

শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ। উত্তর-মধ্যাঞ্চলের এই জেলায় ভোটের উত্তাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। ময়মনসিংহের সবচেয়ে বেশি আসনে ‘বিদ্রোহী’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। মোট ১১টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনেই দলীয় প্রার্থীকে চাপে ফেলেছে স্ব-দলীয় বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে কোনোটিতে দ্বিমুখী, কোনোটিতে ত্রিমুখী, এমনকি চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ফুলবাড়িয়া: দুই দলেই বিদ্রোহী

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসন। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে দলেরই একজন বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে দলেরই একজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারা দেশে এটি একমাত্র আসন, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন।

নির্বাচনী উত্তেজনা কতটা, তা বুঝতে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহ হয়ে ফুলবাড়িয়ার পথে রওনা হই। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব প্রায় ১১৫ কিলোমিটার।

শহরের বাউন্ডারি রোড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ফুলবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা; যা আরও ২০ কিলোমিটারের মতো পথ। সিএনজিচালক শাকিল কোনো রাখঢাক না রেখেই বললেন, ‘এখানে এখন ঘোড়া আর ফুটবলের কথাই বেশি শোনা যায়। সিএনজিতে যারা ওঠে, তারাও এই দুই প্রতীকের হিসাব করে। ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লার কথা আগের মতো নেই।’

ফুলবাড়িয়া বাজারে নেমে এক মুচির ছোট্ট টংদোকানে কানে আসে নির্বাচনী আলাপ। ৭০ বছর বয়সী মুচি দিনেন্দ্র ঋষি বলেন, তিনি ভোট দেবেন। বিপদ-আপদে যাঁকে পান, এবার তাঁকে ভোট দেবেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাস্তার দুই পাশে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে দেখা যায় কৃষকদের। উপজেলা অফিসের তথ্যমতে, এই এলাকার অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি কৃষি। বালিয়ান ইউনিয়নের একটি খেতে কথা হয় কৃষক সোহাগ আলমের সঙ্গে। তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের মনোভাবাপন্ন বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, দল এবার যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে পারেনি। দলীয় প্রতীকের বাইরে তিনি ভোট দিতে পারবেন না, তবে মাঠে ‘ঘোড়া’ ও ‘ফুটবল’ প্রতীকের অবস্থান ভালো।

এখানে এখন ঘোড়া আর ফুটবলের কথাই বেশি শোনা যায়। সিএনজিতে যারা ওঠে, তারাও এই দুই প্রতীকের হিসাব করে। ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লার কথা আগের মতো নেই।
সিএনজিচালক শাকিল

ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-৬ আসন। মোট ভোটার ৪ লাখ ১২ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬২, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৪৭৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন দুজন।

এখানে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম (ফারুক)। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই চাচি, উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি আখতার সুলতানা। তাঁর স্বামী প্রয়াত শামসুদ্দিন আহমেদ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য।

আখতারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়ে নির্যাতন সহ্য করে এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন বলেই দল তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্বদলীয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এখন নির্বাচনে নেমে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন।

আখতার সুলতানা বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চান। ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে চান না।

কৃষক সোহাগ আলমের সঙ্গে। তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের মনোভাবাপন্ন বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, দল এবার যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে পারেনি। দলীয় প্রতীকের বাইরে তিনি ভোট দিতে পারবেন না, তবে মাঠে ‘ঘোড়া’ ও ‘ফুটবল’ প্রতীকের অবস্থান ভালো।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দলের জেলা শাখার নায়েবে আমির কামরুল হাসান। দলটির সাবেক জেলা আমির জসিম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঘোড়া প্রতীকে। তিনি এর আগে তিনবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান।

কামরুল হাসান বলেন, উনি (জসিম উদ্দিন) এখন দলে নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে কোনো মূল্যায়ন করতে চান না। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

আর জসিম উদ্দিনও মনে করেন, দল-মতনির্বিশেষে সব পক্ষের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।

ফুলবাড়িয়া বাজারে নেমে এক মুচির ছোট্ট টংদোকানে কানে আসে নির্বাচনী আলাপ। ৭০ বছর বয়সী মুচি দিনেন্দ্র ঋষি বলেন, তিনি ভোট দেবেন। বিপদ-আপদে যাঁকে পান, এবার তাঁকে ভোট দেবেন।

সব মিলিয়ে এ আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। উপজেলা ঘুরে চারজন প্রার্থীরই সমান প্রচারণা দেখা গেল। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি দুবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী চারবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, ফুলবাড়িয়াসহ পুরো ময়মনসিংহ জেলায় আওয়ামী লীগের ভোটার তুলনামূলকভাবে বেশি। দলটি নির্বাচনে না থাকলেও তাঁদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। অনেকের ভাষায়, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ফুটবল ও ঘোড়া প্রতীক।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত ১২টি সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ থেকে। দুবার বিএনপি থেকে এবং চারবার স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন।

এ আসনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ভোটার তুলনামূলক বেশি। তাই এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাও দেখার বিষয়।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয়দের মতে, ফুলবাড়িয়াসহ পুরো ময়মনসিংহ জেলায় আওয়ামী লীগের ভোটার তুলনামূলকভাবে বেশি। দলটি নির্বাচনে না থাকলেও তাঁদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। অনেকের ভাষায়, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ফুটবল ও ঘোড়া প্রতীক।

ত্রিশালে ত্রিমুখী লড়াই

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে এবারের নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই ত্রিমুখী। এখানে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান লিটন। বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার সাদাত ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁর বাবা প্রয়াত আবদুল খালেক এ আসনে অতীতে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে—ধানের শীষ, কাপ–পিরিচ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।

এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত এই এলাকার ভোটারদের মতে, আঞ্চলিক অবস্থান ও পারিবারিক পরিচয় ভোটের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে—ধানের শীষ, কাপ–পিরিচ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলছিলেন, প্রার্থীদের আঞ্চলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবার ধানের শীষ ও কাপ–পিরিচের লড়াইয়ের কারণে অপর একজন প্রার্থী সুবিধা পেতে পারেন।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৭ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩ হাজার ২৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ১৭৯ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০ জন।

ধানের শীষ-দাঁড়িপাল্লার লড়াই সদর আসনে

ময়মনসিংহ-৪ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও জামায়াতে ইসলামীর কামরুল আহসানের মধ্যে। এখানে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হতে পারে বলে মত স্থানীয়দের।

ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে কথা হয় রিশাদুল আলমের সঙ্গে, যিনি প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে পরিবেশ ভালো। আওয়ামী লীগ ভোটে নেই। এখন বিএনপি বড় দল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামায়াতও ভালো করছে।

এই তরুণ মনে করেন, সদর আসনে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুদের ভোট একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যদি তারা ভোট দিতে যায়।

আনন্দ মোহন কলেজের সামনে কথা হয় কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ আহমেদ ফকিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিএনপিকে কারা ভোট দেবে সেটা বোঝা যায়, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে কারা ভোট দেবে, সেটা খুব বেশি বোঝা যাচ্ছে না।

আরিফের মতে, আওয়ামী লীগের সমর্থক যারা ভোটকেন্দ্রে যাবে, তাদের ভোট দুই দিকে ভাগ হয়ে যাবে। এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।

ময়মনসিংহ-৪ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫ জন, নারী ভোটার ৩ লাখ ৫০ হাজার ২৯১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১০ জন।

এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে আবু মো. মুসা সরকার, কমিউনিস্ট পার্টি থেকে এমদাদুল হক মিল্লাত, বাসদ (মার্ক্সবাদী) থেকে শেখর কুমার রায় এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে নাসির উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাহী কমিটির সদস্য এম ইকবাল হোসেইন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান। তিনি গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যান্য বিদ্রোহী প্রার্থীর মতো তায়েবুরকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

‘বিদ্রোহীরা’ শক্ত অবস্থান আরও যেখানে

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ। তাঁর বিপরীতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর। তাঁর প্রতীক ঘোড়া।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালমান ওমর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর একটি অংশেরও সমর্থন পাচ্ছেন।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। এ আসনে বিএনপি-দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ শহীদ সারোয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর প্রতীক ‘ঘোড়া’। তিনি ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন।

দল নয়, শেষ পর্যন্ত কোন ব্যক্তির ওপর ভোটাররা আস্থা রাখেন—সেটা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাহী কমিটির সদস্য এম ইকবাল হোসেইন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান। তিনি গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। অন্যান্য বিদ্রোহী প্রার্থীর মতো তায়েবুরকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর বাবা আনোয়ার হোসেন খান চৌধুরীও এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এখানে ইয়াসের খানের চাচা এবং সাবেক সংসদ সদস্য খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভাতিজার বিরুদ্ধে চাচির প্রার্থী হওয়া নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। এখানে আরও চারজন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান ভোটের মাঠে শক্তভাবে রয়েছেন।

যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান দলীয় প্রার্থীর চেয়েও ভালো। তাঁর মতে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততা আছে, এমন অনেকে উপেক্ষিত হয়েছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর সম্পাদক আলী ইউসুফ

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন দলের মনোনয়ন। তাঁর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। তাঁর প্রতীক হরিণ। এ আসনে এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকে জাহিদুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিএনপির বিপরীতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন

এর বাইরে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এখানে বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু (সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই)। আর জামায়াতের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নুরুল কবির শাহিন। এই আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী এলডিপির আওরঙ্গজেব বেলাল ছাতা প্রতীকে লড়ছেন। জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামও নির্বাচন করছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর সম্পাদক আলী ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান দলীয় প্রার্থীর চেয়েও ভালো। তাঁর মতে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততা আছে, এমন অনেকে উপেক্ষিত হয়েছেন।

মাঠের মানুষের ভাষায়, ময়মনসিংহে এবারের নির্বাচন কেবল দলীয় প্রতীকের নয়; এটি ব্যক্তি, সম্পর্ক, অতীত অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বাসেরও পরীক্ষা। দল নয়, শেষ পর্যন্ত কোন ব্যক্তির ওপর ভোটাররা আস্থা রাখেন—সেটা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।