খুলনায় আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে
খুলনায় আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে

গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে প্রচার করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব: আলী রীয়াজ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকলেও সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা চালানোর দায়িত্ব রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে কোনো বাধা নেই।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আলী রীয়াজ।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ এই সহকারী বলেন, ‘যে সংবিধান বা ব্যবস্থা প্রশাসনকে নিজের ইচ্ছায় পরিচালনার সুযোগ দেয়, সেখানে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই সংবিধান থেকে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করা। তাই গণভোটে “হ্যাঁ”–এর পক্ষে প্রচার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোটের সময় সরকারপ্রধানেরা প্রকাশ্যেই “হ্যাঁ”–এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।’

‘হ্যাঁ’–এর কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী নেই উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘“হ্যাঁ”–এর প্রার্থী আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ, “হ্যাঁ” আমাদের উপহার দেবে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ, যা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা। পরিবর্তনের সেই আকাঙ্ক্ষাই মানুষকে জীবন দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।’

জুলাই জাতীয় সনদ কোনো ব্যক্তি বা সরকারের এজেন্ডা নয় উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এই সনদ কাগজে কালো রঙে ছাপা হলেও লেখা হয়েছে রক্তের অক্ষরে। দেশ সংস্কার করে সাম্য ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’–তে সিল দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গণভোটের প্রতীক ‘টিক চিহ্ন’ বলেও উল্লেখ করেন।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত এই জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন চায় না। মানুষ এমন একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ চায়, যেখানে গুম, গায়েবি মামলা কিংবা ভয়ভীতির সংস্কৃতি থাকবে না।

সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার। তিনি বলেন, এবারের গণভোট নতুন বাংলাদেশ ও নতুন বন্দোবস্তের পক্ষে জনমত যাচাইয়ের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে রায় দিলে সংবিধানে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাকসুদ হেলালী, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক–শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজ, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।