প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার এক দিন পর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুরাদ কবীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচন থেকে মুরাদ কবীর সরে দাঁড়ালেও ব্যালটে তাঁর নাম ও প্রতীক থেকেই যাচ্ছে।
মুরাদ কবীর গাজীপুর–১ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের স্বজন হিসেবে পরিচিত। সংবাদ সম্মেলনে মুরাদ কবীর বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাঙ্গে জড়িত। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আমাদের দলীয় একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো এমপি বা মন্ত্রীর আত্মীয়স্বজন বা পরিবারের কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সেই সিদ্ধান্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমি মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক। আমি অপেক্ষায় ছিলাম যে এ ব্যাপারে দলের শিথিলতা আসতে পারে। এ জন্য গতকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত আমি অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি শিথিলতা নিয়ে। যার কারণে দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মুরাদ কবীর আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলের সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পরিবারের একজন সদস্য আমি। তাই আমি চাই না আমার কারণে তিনি বিভ্রান্ত হোন। যদিও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচন আমি করতে পারি। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে যাওয়া আমার ঠিক হবে না। আমি চাই না বাংলাদেশের একজন সিনিয়র মন্ত্রী আমার কারণে বিভ্রান্তিকর কোনো অবস্থায় পড়ুন।’
কাউকে সমর্থন দিচ্ছেন কি না, জানতে চাইলে মুরাদ কবীর বলেন, যাঁরা নির্বাচন করছেন, তাঁরা দুজনই আওয়ামী লীগের নেতা। তাই তিনি এখনই কারও পক্ষ নিচ্ছেন না।
দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় আর দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন সিকদার ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলিম মোহাম্মদ আজাদ।