রূপগঞ্জে র‍্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় তিন মামলা, আ.লীগ নেতাও আসামি

র‍্যাবের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য বজলুর রহমানকে
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুই দিন আগে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে। এর মধ্যে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাও। এসব মামলায় ওই নেতার ছোট ভাইসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে র‍্যাব-১–এর নায়ক সুবেদার মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা তিনটি করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তলসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করার কথা বলা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে আছেন রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য বজলুর রহমান। তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। এসব মামলা ছাড়াও বজলুর বিরুদ্ধে আরও অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে।

ওই তিন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার পারভিন বেগম, রিপন মিয়া, রাজু আহাম্মেদ ওরফে রাজা, মো. হাসান, তপু মিয়া, জসিম ব্যাপারী, বাবু, আমিন, রাসেল হোসেন, নাজমুল হোসেন রায়হান ও সুজন। এর মধ্যে হাসান আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের ছোট ভাই। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রাজু আহাম্মেদ চনপাড়া এলাকায় একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে বজলুর রহমান, শাওন, মোস্তফা, শিল্পী বেগম, মোবারক, ফাইজ উদ্দিন, শাহ আলম, সোহাগ মাঝি, মিঠু, সিরাজুল, সাদ্দাম, মুন্না, পিয়াস, ওমর, মহসিন, বিল্লাল, আরাফাত, সম্রাট, বিকাশ ও মাল্টা রনি পলাতক। তাঁরা সবাই চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বজলুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে র‍্যাব-১–এর সদস্যরা চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদক, অস্ত্রসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় চার থেকে পাঁচ শ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র‍্যাবের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা সড়কের পাশে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। র‍্যাবকে উদ্দেশ করে গুলি করে এবং বাহিনীটির একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় র‍্যাব সদস্য নাঈম ইসলাম ও খন্দকার কামরুজ্জামান আহত হন। খবর পেয়ে র‍্যাব-১১, র‍্যাব-১–এর পূর্বাচল ক্যাম্প, রূপগঞ্জ থানা–পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে র‌্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।