পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তোলা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তোলা

পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলা বিএনপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুকিত মিয়া গতকাল বুধবার রাতে দুমকী থানায় মামলাটি করেন।

ওই মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে আছেন—দুমকী উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব ও দল থেকে আজীবন বহিষ্কৃত সালাউদ্দিন রিপন শরীফ, উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক বশির উদ্দিন, বিএনপির সদস্য জসিম উদ্দিন হাওলাদার, যুবদলের নেতা আহসান ফারুক ও এস এম সুলতান সাখাওয়াত, মহিলা দলের নেত্রী হেলেনা খানম, কৃষক দলের নেতা সৈয়দ শামীম ও আবদুল ওহাব এবং শ্রমিক দলের নেতা রুবেল শরীফ। বাকি আসামিরা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেন। এ সময় তাঁরা উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কর্মবিরতির ডাক দেন। ওই সময় এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নিরাপত্তাকর্মীদের ভয় দেখিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দিয়ে দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী আহত হন। এ ছাড়া সরকারি মালামাল ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দীন বলেন, অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার পর গোলাম কিবরিয়া নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সম্ভবত উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এ সময় সালাউদ্দিন রিপন শরীফ ও তাঁর অনুসারীরা ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক বশির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ফারুক ও সুলতান শওকত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা ফরাজী এবং জেলা মহিলা দলের সদস্য হেলেনা খানমকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশে সালাউদ্দিন রিপন শরীফসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।