
চুয়াডাঙ্গায় বিদেশ থেকে আমদানি করা গমভর্তি ছয়টি কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক থেকে বালুর বস্তা ও কংক্রিটের টুকরা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার সদর খাদ্যগুদামে গম খালাসের সময় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি টের পান। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের চালক এবং চালকের সহকারীরা ট্রাক রেখে আত্মগোপনে চলে গেছেন। আজ সোমবার সকাল থেকে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি আজ সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে। দুটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি ট্রাকের গম খালাসের সময় মোট ২ হাজার ১৫৯ কেজি গম কম পাওয়া গেছে। এই ৩টি গাড়ি থেকে বালুভর্তি ১৭টি বস্তা উদ্ধার করা হয়। বাকি তিনটি ট্রাকের গম খালাসের অপেক্ষায় আছে।
সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা গম খুলনায় পৌঁছানোর পর ৪ নম্বর ঘাট থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি দুটি কাভার্ড ভ্যান ও চারটি ট্রাকে করে চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। চালান অনুযায়ী ৬টি গাড়িতে মোট ১ হাজার ৬৩৩ বস্তায় ৯৯ দশমিক ৭৬৮ মেট্রিকটন গম ভর্তি করা হয়। গমভর্তি গাড়িগুলো রোববার ভোরে চুয়াডাঙ্গায় খাদ্যগুদামে পৌঁছায়। গমসহ গাড়িগুলো ওজন করে গুদামে ঢোকানো হয়। তিনি বলেন, ‘একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গম খালাসের সময় চালক ও সহকারীর আচরণ সন্দেহজনক হলে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি বালুর বস্তা পাওয়া যায়। এরপর একে একে সব কটিতেই তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে বিপুল পরিমাণ বালু ও কংক্রিটের বড় বড় টুকরা পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সব কটি গাড়ির চালক ও চালকের সহকারীরা জানান, ঘাট থেকে লোডিং পয়েন্টে তাঁরা ছিলেন না। মাঝপথ থেকে গাড়ি বুঝে নিয়েছেন। তাই বালু ও কংক্রিটের বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়।’
এদিকে গমের গাড়িতে বালু ও কংক্রিট পাওয়ার ঘটনা তদন্তে আলমডাঙ্গা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবদুল হামিদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি আজ সোমবার সকাল থেকে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত দলের অন্য দুই সদস্য হলেন সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কারিগরি পরিদর্শক মোছা. নাসরিন বানু।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ছয়টি গাড়ির চালক ও চালকের সহকারীরা যোগসাজশ করে গমভর্তি বস্তা সরিয়ে গাড়ির গোপন স্থানে পরিমাণমতো বালুর বস্তা ও কংক্রিট লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিচক্ষণতায় তা বের হয়ে আসে।
তদন্ত দলের সদস্য নাসরিন বানু বলেন, ‘তিনটি গাড়ি খালাস করে প্রতিটিতেই গমের পরিমাণ কম পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাকি তিনটিতেও কম পাওয়া যাবে। চালক ও সহকারীদের উপস্থিতিতে ট্রাকগুলো খালাসের প্রয়োজন। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে এসব চালক ও সহকারীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সন্দেহভাজন চালক ও সহকারীদের রাতে একটি ঘরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সকালে চা খাওয়ার কথা বলে বের হয়ে তাঁরা আর ফিরে আসেননি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গাড়ি থেকে গম খালাসের সময় আলাদাভাবে ওজন করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন চালক ও সহকারীরা পালিয়ে গেলেও সমস্যা হবে না। গাড়ির মালিকদের মাধ্যমে তাঁদের ধরে আনা হবে।’