পাবনার সুজানগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত মুনছুর খাঁ (৬০) নামের আরও একজন মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে সুজানগর ও ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ৩১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আজ বিকেল পর্যন্ত কোনো ঘটনায় মামলা হয়নি।
নিহত মুনছুর খাঁ সুজানগর উপজেলার ভিটবিলা গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল সোমবার সকালে ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে চায়না খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধূ মারা যান। তিনি একই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সুজানগরের হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলামের সমর্থকদের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপির সমর্থক ইসলাম প্রামাণিকের অনুসারীদের বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এরপর ইসলাম প্রামাণিকের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিলেন। তখন রাফিউল ইসলামের লোকজন লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করে গুলিবর্ষণ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন। গুলিতে ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আহত হন আরও ১০ জন। পরে আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুনছুর খাঁ মারা যান। নিহত দুজনই বিএনপির কর্মী ইসলাম প্রামাণিকের পক্ষের সমর্থক।
পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ বলেন, সংঘর্ষে এক গৃহবধূ নিহত হওয়ার পর আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত মুনছুর খাঁ মারা গেছেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনিও গুলিবিদ্ধ ছিলেন। তবে তাঁরা এখনো বিষয়টি নিশ্চিত নন। লাশ পাবনায় পৌঁছালে ও ময়নাতদন্ত হলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে গতকাল ঈশ্বরদী রেলগেট ও পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পাবনা–৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় হাবিবুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ছয়টি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
দুই উপজেলায় আটক ৩১, মামলা হয়নি
সুজানগর ও ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সুজানগরে ১২ জন ও ঈশ্বরদীতে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কোনো ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত মামলা হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা সাদিক আহমেদ বলেন, সুজানগরে সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ১২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। নিহত চায়না খাতুনের স্বামী শুকুর আলীর একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, বারবার বলার পরও এখনো কোনো পক্ষ এজাহার জমা দেয়নি। এজাহার জমা দেওয়া মাত্রই মামলা নথিভুক্ত করা হবে। বিকেল পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা যাচাই–বাছাই চলছে।