চিকিৎসাধীন আহত বিএনপির কর্মী ধজিবুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন আহত বিএনপির কর্মী ধজিবুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে

পঞ্চগড়-১ আসন

বিএনপি ও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৩

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বিএনপি ও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের (জামায়াত-এনসিপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার পর উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রমজান পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দুই পক্ষের ৯ জন আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা-কর্মীদের মিছিল থেকে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদ করায় বাগ্‌বিতণ্ডার পর তাঁদের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ চারজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া অপর একজন আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামের অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল রাতেই তাঁকে রংপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

এনসিপির নেতা-কর্মীদের দাবি, বিএনপির প্রার্থীর কোনো ব্যানার ছেঁড়া হয়নি। অটোয়ারী উপজেলা শহরে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের নির্বাচনী জনসভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নেতা-কর্মীদের বহনকারী একটি পিকআপ বিএনপির প্রার্থীর ব্যানারে লেগে সেটি দুলছিল। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে তাঁদের নেতা-কর্মীদের আটকে দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিএনপির লোকজন জামায়াত ও এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে তাঁদের একজন নারীসহ আটজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও একজনকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাতে আটোয়ারী উপজেলা শহরে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা সারজিস আলমের শাপলা কলি প্রতীকের জনসভা শেষে তাঁদের রমজান পাড়া এলাকার নেতা-কর্মীরা পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ভ্যানে করে ফিরছিলেন। এ সময় তাঁরা শাপলা কলি প্রতীকের স্লোগান দিচ্ছিলেন। রমজান পাড়া এলাকায় আসার পর বিএনপির কর্মীরা তাঁদের প্রার্থী নওশাদ জমিরের ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে তাঁদের পথরোধ করে কেন ব্যানার ছেঁড়া হলো তা জানতে চান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির কর্মী ফজলার রহমান বলেন, ‘জামায়াত ও এনসিপির লোকজন পিকআপ থেকে আমাদের ধানের শীষের একটা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় আমরা তাঁদের গাড়ি থামাতে বললেও তাঁরা কিছু দূর সামনে চলে যান। পরে সামনে গিয়ে তাঁদের থামিয়ে কেন ব্যানার ছিঁড়লেন জানতে চাইলে তাঁরা আমাদের ওপর হামলা করেন। পরে আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সেখানে এলে তাঁকেও লাথি মেরে আহত করা হয়। আমাদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও জামায়াত ও এনসিপির নেতারা বাধা দিয়েছেন।’

পঞ্চগড়-১ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা সারজিস আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীরা সভা শেষে বাড়িতে ফিরছিল। এ সময় আমাদের পিকআপ লেগে তাদের (বিএনপির) প্রার্থীর ব্যানার সামান্য দুলছিল। আসলে আমাদের সভায় লোকজনের উপস্থিতি দেখে তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে ঝগড়া করতে এসেছে। ব্যানার দোলানোটাকে ইস্যু বানিয়ে হামলা করে আমাদের একজন নারীসহ মোট আটজনকে আহত করেছে। এ ঘটনায় আইনগত অভিযোগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ইউএনওসহ পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।’