
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী আপিলে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এতে এ আসনের ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই।
জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছলিম উদ্দিন তরফদারের কাছে পরাজিত হন। তাঁর বাবা প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী ছিলেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার এবং নওগাঁ-৩ আসন থেকে বিএনপিদলীয় তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী। তবে দলটি ওই আসনে মনোনয়ন দেয় বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদাকে (বাবুল)। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জানুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গরমিল পাওয়ার অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী। আপিলের শুনানি শেষে গতকাল বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার প্রতিক্রিয়া পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগের রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি নওগাঁ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আমার প্রার্থিতা অন্যায়ভাবে বাতিল করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার রায়ে বলা হয়েছিল, আমার স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় ১ শতাংশ ভোটার তালিকা থেকে ১০ জন ভোটারের সত্যতা অনুসন্ধান করে নাকি ২ জন ভোটার স্বাক্ষর করেননি বলে পাওয়া গেছে। অথচ প্রত্যেক ভোটারের স্বাক্ষর করার ভিডিও আমার কাছে আছে। অবশেষে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে আমি আমার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি।’
এদিকে গতকাল সন্ধ্যার দিকে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। একই সঙ্গে এ আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা আহসান হাবীব বলেন, পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর এত দিন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যেই নির্বাচনী লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ভোটের অঙ্কের হিসাব জটিল হয়ে গেল। আগে ছিল দ্বিমুখী লড়াই, এখন হয়ে গেল ত্রিমুখী লড়াই।