কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর আরোপিত শর্ত প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। গত মঙ্গলবার সকালে খুলনা নগরের দৌলতপুর এলাকায়
কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর আরোপিত শর্ত প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। গত মঙ্গলবার সকালে খুলনা নগরের দৌলতপুর এলাকায়

কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদে খুলনায় পাটশ্রমিকদের আন্দোলন স্থগিত

কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদে চলমান অবস্থান কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছেন খুলনার পাটশ্রমিকেরা। খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিলে আজ রোববার শ্রমিকেরা কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে ১৯ মে থেকে খুলনার দৌলতপুরে বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শ্রমিকেরা। এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ১০টা থেকে আবারও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্মসূচিস্থলে যান কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি আন্দোলনরত শ্রমিক ও জুট অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয় তুলে ধরে তিনি শ্রমিকদের আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানান।

শ্রমিকদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম বলেন, তাঁরা রুটিরুজির আন্দোলন করছেন এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি তাঁকে আগে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পাট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, গত সপ্তাহে কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের আবেদনের পর পাটমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছিল। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের পর আবারও পাট প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৩ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বৈঠকেও খুলনার পাটশ্রমিকদের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

নজরুল ইসলামের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী ২ জুন পাটসংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক হবে। সেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিরূপণ করে কাঁচা পাট রপ্তানির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ও কেসিসি প্রশাসকের আহ্বানে শ্রমিকেরা আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এর আগে দৌলতপুরে বিজেএ কার্যালয়ে কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পরিচালক নূর ইসলাম, বদরুল আলম, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ শ্রমিকনেতারা।

বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত কাঁচা পাট রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো। কিন্তু ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনের কারণে চলতি অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিজেএর দাবি, বর্তমানে দেশে কাঁচা পাটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পাট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে মোট ৮৬ দশমিক ৬৭ লাখ বেল কাঁচা পাট রয়েছে। বিপরীতে দেশের জুট মিল ও অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা প্রায় ৪৫ লাখ বেল। ফলে বিপুল পরিমাণ পাট উদ্বৃত্ত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, বৃহত্তর ফরিদপুর, উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রায় ৪০টি জুট প্রেস হাউস বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ব্যবসা বন্ধ থাকলেও গুদামভাড়া, ব্যাংকঋণের সুদ, বিমা, শ্রমিক ব্যয়সহ নানা খরচ বহন করতে হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সংকট বাড়ছে।