
কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছে শেষকৃত্যে অংশ নেন।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ আজ সন্ধ্যা ছয়টায় প্রথম আলোকে বলেন, কারাগারে প্যারোলের আদেশ পৌঁছানোর পর বিকেল চারটার দিকে চিন্ময়কে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়ে তিনি তাঁর মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী যা যা করার সব করছেন। তিনি আরও বলেন, পুণ্ডরীক ধাম ও আশপাশ এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শেষকৃত্যে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিন্ময় দাস পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছে মন্দিরে যান। সেখানে মায়ের লাশের সামনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে চিন্ময়ের ভক্তরা পুণ্ডরীক ধামে অবস্থান নেন।
এর আগে আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।