
বান্দরবান জেলা বিএনপির দুটি পক্ষের মুখে মুখে ঐক্য হলেও দলীয় কাজে আলাদাভাবে সক্রিয় রয়েছে দুটি পক্ষ। সাচিংপ্রু জেরীকে নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার পরও দুই পক্ষ এক মঞ্চে কোনো সভা–সমাবেশ করতে পারেনি। গত শুক্রবার বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে জেরী পক্ষের নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের দেখা গেলেও ম্যামাচিং–জাবেদ পক্ষের কেউ ছিলেন না।
দলের উভয় পক্ষের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার জন্য কেন্দ্র থেকে একাধিকবার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষের শীর্ষ নেতাদের চট্টগ্রামে ও ঢাকায় ডেকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার পরও কাজ হয়নি। দুই পক্ষই মুখে মুখে বলে আসছে, দলে দ্বিধাবিভক্তি নেই। দল থেকে যাঁকে প্রার্থী মনোনীত করা হবে, সবাই তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। ৩ নভেম্বর সাচিংপ্রু জেরীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু দুই পক্ষ এক মঞ্চে কাজ করা দূরের কথা, এখনো একসঙ্গে বসে আলাপও করেনি বলে দলীয় নেতা–কর্মীরা গতকাল শনিবার জানিয়েছেন।
সারা দেশে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে নির্বাচনী যাত্রা শুরু কর্মসূচিতে বান্দরবানেও বিশাল শোভাযাত্রা ও সমাবেশ হয়েছিল। কর্মসূচিতে শুধু সাচিংপ্রু জেরীর পক্ষের নেতা–কর্মীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। ম্যামাচিং–জাবেদ পক্ষের কেউ ছিলেন না। সমাবেশে সাচিংপ্রু জেরী বলেন, জেলা বিএনপিতে এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। সবাই একসঙ্গে নির্বাচনের কাজ করবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ম্যামাচিং পক্ষের অন্যতম নেতা জাবেদ রেজা ও তাঁর সমর্থকেরা নিজের মতো কর্মসূচি পালন করছেন। গতকাল লামা ও আলীকদমে গেছেন তাঁরা। সেখানে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন। প্রার্থিতা না পাওয়ায় ব্যথিত নেতা–কর্মীদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সফর বলে তাঁর পক্ষের নেতা–কর্মীরা জানিয়েছেন।
সারা দেশে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে নির্বাচনী যাত্রা শুরু কর্মসূচিতে বান্দরবানেও বিশাল শোভাযাত্রা ও সমাবেশ হয়েছিল। কর্মসূচিতে শুধু সাচিংপ্রু জেরীর পক্ষের নেতা–কর্মীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। ম্যামাচিং–জাবেদ পক্ষের কেউ ছিলেন না। সমাবেশে সাচিংপ্রু জেরী বলেন, জেলা বিএনপিতে এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ। সবাই একসঙ্গে নির্বাচনের কাজ করবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ম্যামাচিং পক্ষের অন্যতম নেতা জাবেদ রেজা ও তাঁর সমর্থকেরা নিজের মতো কর্মসূচি পালন করছেন। গতকাল শনিবার লামা ও আলীকদমে গেছেন তাঁরা। সেখানে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন। প্রার্থিতা না পাওয়ায় ব্যথিত নেতা–কর্মীদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সফর বলে তাঁর পক্ষের নেতা–কর্মীরা জানিয়েছেন।
ম্যামাচিং–জাবেদ পক্ষের জাবেদ রেজা বলেন, সাচিংপ্রু জেরী তাঁকে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠানের জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু কাজের কারণে তাঁকে চট্টগ্রামে যেতে হয়েছে। কর্মসূচিতে থাকতে পারেননি। জাবেদ বলেন, সাচিংপ্রু জেরীকে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশ–পরিস্থিতির পটভূমি বিবেচনায় প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারেন। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে সবাই ধানের শীষের পক্ষে একযোগে কাজ করবেন। সেখানে ব্যক্তি কোনো বিষয় নয়, দলীয় প্রতীক শেষ কথা। দলে কোনো বিভেদ ও অনৈক্য নেই বলে জানিয়েছেন জাবেদ রেজা।
জেরী পক্ষের নেতা ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রশিদ ও জেলা কমিটির সদস্য নুমংপ্রু মারমা জানিয়েছেন, সাচিংপ্রু জেরী প্রার্থিতা ঘোষণার পর ম্যামাচিংয়ের কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ম্যামাচিংয়ের সামনে জাবেদ রেজাকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু জাবেদ ফোন ধরেননি।
বান্দরবান–৩০০ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিংপ্রু জেরী, সদস্যসচিব জাবেদ রেজা ও সাবেক জেলা সভাপতি ম্যামাচিং প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। জেরী ও ম্যামাচিং–জাবেদ পক্ষের কোন্দলে জর্জরিত বান্দরবান বিএনপি। নেতা–কর্মীরাও স্বীকার করেন বান্দরবানে এককভাবে বিএনপির ভোটার সবচেয়ে বেশি, কিন্তু দলীয় কোন্দলে দলটি বারবার নির্বাচনে হেরেছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতারা পাল্টাপাল্টি দুটি জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে উভয় পক্ষের নেতা–কর্মীদের সমন্বিত একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এরপরও একই জেলা কমিটিতে দুটি পক্ষ হয়ে সক্রিয় রয়েছে।