
বিনা টিকিটেই একদল লোক ওঠেন ট্রেন। বসে ছিলেন আসনেও। এর মধ্যে টিকিটধারী যাত্রী উঠলে বিনা টিকিটের যাত্রীরা তাঁদের বসতে তো দেননি, উল্টো বাধা দেন। একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে আশপাশের যাত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁরা ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে যান।
টিকিটধারী যাত্রীদের ওপর বিনা টিকিটের যাত্রীদের এই মারধরের ঘটনা ঘটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ট্রেন রাত ১২টায় চট্টগ্রাম স্টেশনে এসে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টায় এসে পৌঁছার কথা।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের ওপর হামলার এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এই ব্যাপারে তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে।
রেলওয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ঢাকা থেকে চট্টলা এক্সপ্রেস সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এই ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে থামে এবং যাত্রী ওঠা-নামা করে। চট্টগ্রামে আসার পথে মেথিকান্দা রেলস্টেশনেও থেমেছিল। ওই সময় ট্রেনের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগির ভেতরে একদল লোক বিনা টিকিটে উঠে আগে থেকে বসে ছিলেন। তাঁরা টিকিটধারী যাত্রীদের আসনে বসতে বাধা দেন। এর প্রতিবাদ করলে মারধর শুরু করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, টিকিট না থাকা সত্ত্বেও একদল লোক এসি বগিতে উঠে পড়েছিলেন। কিন্তু টিকিটধারীরা নিজেদের আসনে বসতে গেলে বাধা দেন। এতে হাতাহাতি হয়। এ সময় রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ের কর্মীরা ছুটে গেলে ওই লোকগুলো মেথিকান্দা স্টেশনে নেমে পড়েন। তবে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ দিতে বলা হলেও তাঁরা কোনো অভিযোগ করেননি।
রেলওয়ের চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চট্টলা এক্সপ্রেসে প্রায় সময় বিনা টিকিটের যাত্রীরা ট্রেনে ওঠে টিকিটধারী যাত্রীদের আসন দখল করে রাখা এবং প্রতিবাদ করলে হামলা করার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।