চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) তৃতীয় সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। আজ দুপুরে নগরের নেভি কনভেনশন সেন্টারে
চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) তৃতীয় সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। আজ দুপুরে নগরের নেভি কনভেনশন সেন্টারে

রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের উত্তরণের পথে রয়েছি: শিক্ষা উপদেষ্টা

চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) তৃতীয় সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের উত্তরণের পথে রয়েছি আমরা। কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায়; সেটি আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। কোন পথে আমরা যাব। যে পথ অতীতে নানা সমস্যা সৃষ্টি করেছে, আমাদের বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে, যে ব্যবস্থা আমাদের নাগরিকত্ব হরণ করে প্রজা বানিয়েছে, সে ধরনের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ রাখব, নাকি নতুন এক ব্যবস্থার দিকে আমরা যাব, সে সিদ্ধান্ত এখন নিতে হবে।’

আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের নেভি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবার ভোটার হবেন। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সি আর আবরার বলেন, শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার বা আকাঙ্ক্ষা পূরণে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজে নিজেদের ভূমিকা কী হবে, তা ভাবতে হবে। ব্যক্তি অর্জনে নয়, সমাজকে কী দেওয়া যাচ্ছে; সেখানেই জীবনের সাফল্য নির্ধারিত হয়। তিনি আরও বলেন, অন্ধভাবে কর্তৃত্বকে তুষ্ট না করে বিবেক দিয়ে পরিচালিত হতে হবে। ডিগ্রি একটি সুযোগ, আর শিক্ষা একটি দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এমন এক অস্থির সময়ে শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করছে, যখন গত ৫০-৭০ বছরের প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক মূল্যবোধ প্রশ্নের মুখে। এই প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় নিয়মিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। গড্ডলিকাপ্রবাহে না ভেসে বিচারবুদ্ধি ও নৈতিক অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে; আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়নীতির প্রতি অঙ্গীকার রাখতে হবে।

প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি যেন আমাদের দাস না বানায়। বরং আমরা যেন তার ওপর কর্তৃত্ব রাখি। তথ্যপ্রবাহের এই সময়ে সত্য-মিথ্যা আলাদা করার দায়িত্বও আমাদেরই।’

এবারের সমাবর্তনে ১৬৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এর মধ্যে অসামান্য ফলাফলের জন্য ৭ জন ‘টপ অ্যাচিভার্স’ পুরস্কার পান

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ডিগ্রি কোনো চূড়ান্ত পুরস্কার নয়; এটি একটি প্রতিশ্রুতি ও নতুন যাত্রার শুরু। অনিশ্চয়তাকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করতে হবে, ব্যর্থতা থেকে শিখে আবার শুরু করার মানসিকতাই এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। জীবনে দর্শক নয়, চালকের আসনে থাকার চেষ্টা করতে হবে। উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকবে, তবে তা মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের সমাবর্তনে বিভিন্ন অনুষদের ১৬৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের ১২১ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অসামান্য ফলাফলের জন্য সাতজন শিক্ষার্থী ‘টপ অ্যাচিভার্স’ পুরস্কার পান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। আরও বক্তব্য দেন সিআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লুৎফে এম আইয়ুব, সিআইইউর এডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জাকারিয়া খান ও সিআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ নুরুল আবসার।