
ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় চট্টগ্রামে পাঁচ জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়েছে। আজ বুধবার তৃতীয় অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ জসীম উদ্দিন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এই পাঁচ আসামি হলেন বুলবুল আহমেদ, মো. মাহবুব, মো. শাহজাহান, মিনহাজুল ইসলাম ও নুরনবী। তাঁরা নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। সাত বছর আগে নিজস্ব তহবিল সংগ্রহের জন্য ডাকাতি করতে গিয়ে তাঁদের ছুড়ে মারা গ্রেনেডে একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নিহত হন। সেই মামলায় এই অভিযোগ গঠন করা হয়।
সরকারি কৌঁসুলি কেশব চন্দ্র নাথ প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে পাঁচ জঙ্গির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করা হয়। ওই সময় তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য রাখেন।
২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে মাঝিরঘাটের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে সত্যগোপাল ভৌমিক প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে রিকশায় ফিরছিলেন। তিনি মাঝিরঘাটের সাহা করপোরেশন নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ছিলেন। পথে দুই জঙ্গি ককটেল ও গুলি ছুড়ে টাকা ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন জঙ্গিদের প্রতিরোধে এগিয়ে এলে তাঁরা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। একপর্যায়ে নিজেদের কাছে থাকা ককটেল বিস্ফোরণে দুই জঙ্গির একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরেকজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এর আগে জঙ্গিদের গুলি ও ককটেলে সত্যগোপাল, বাবুলসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২টি অস্ত্র ও ১৬টি গুলি উদ্ধার করে। জঙ্গিদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে। ২৬ সেপ্টেম্বর সত্যগোপাল সকালে মারা গেছেন।
এ ঘটনায় সদরঘাট থানায় তিনটি মামলা হয়। তদন্ত করতে গিয়ে ৫ অক্টোবর কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে গ্রেনেড, অস্ত্র, গুলিসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শেষে পুলিশ ২০১৬ সালের ২৬ মে পাঁচ জঙ্গির বিরুদ্ধে ডাকাতি করতে গিয়ে খুনের মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। সেখানে বলা হয়, সংগঠনের তহবিল সংগ্রহের জন্য তাঁরা ডাকাতিতে অংশ নেন।