
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম দায়িত্ব গ্রহণের পর পাঁচটি অনুষদে পুনরায় পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ছয়টি অনুষদে অন্তর্বর্তীকালীন ডিন নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য হায়দার আলীর বিরুদ্ধে। নতুন উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম দায়িত্ব গ্রহণের দুই কর্মদিবসের মধ্যে ওই নিয়োগ বাতিল করেন। আগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দুই দিনের মাথায় আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদে পুনরায় অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
তবে বর্তমান প্রশাসনের ভাষ্য, নতুন এই সিদ্ধান্তে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য হয়নি। নির্বাহী ক্ষমতায় উপাচার্য তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পাঁচটি অনুষদে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছেন। ওই পাঁচজন উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে ডিনের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় নিয়মিত ডিন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা। তবে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিনের দায়িত্বে থাকছেন উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম নিজেই।
গতকাল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক জাকির ছায়াদ উল্লাহ খান, প্রকৌশল অনুষদে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারকে ডিনের দায়িত্ব সামলানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৮ মে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক বেলাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ছুটি, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে ডিনের পদ শূন্য থাকায় উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে এসব শিক্ষক সংশ্লিষ্ট অনুষদের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬–এর ধারা ২২(৬) অনুযায়ী এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আজ বৃহস্পতিবার থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।
এর আগে ১১ মে সদ্য সাবেক উপাচার্য হায়দার আলীর প্রশাসন ছয়টি অনুষদে অন্তর্বর্তীকালীন ডিন নিয়োগ দিলে তা নিয়ে শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, জ্যেষ্ঠতা ও বিভাগীয় রোটেশনের নিয়ম না মেনে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে ওই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম এবং আইন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মাসুদা কামাল ওই নিয়োগকে ‘বিধিবহির্ভূত’ ও ‘নিয়ম ব্যত্যয়কারী’ দাবি করে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান।
১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। দায়িত্ব গ্রহণের দুই কার্যদিবসের মধ্যেই ১৮ মে তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনের সেই ডিন নিয়োগের আদেশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের ডিনের দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করেন এবং পৃথক আদেশে আইন অনুষদের দায়িত্ব অধ্যাপক ড. বেলাল উদ্দিনের ওপর অর্পণ করেন।
এ বিষয়ে আজ দুপুরে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সদ্য সাবেক উপাচার্য আইন বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়া ডিন নিয়োগ দেওয়ায় আগের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। পরে ডিনের দায়িত্ব উপাচার্য স্যারের কাছে যায়। কিন্তু উপাচার্য স্যার অনেক ব্যস্ত থাকেন। এ জন্য সব অনুষদের দায়িত্ব সামলানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া প্রতিটি অনুষদে ডিনদের অনেক কাজ থাকে। তাই প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পাঁচটি অনুষদে সাময়িকভাবে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষকেরা উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। তাঁদের সরাসরি ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
পরবর্তী সিন্ডিকেট সভা ও আইন বিশেষজ্ঞের মতামত না পাওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ডিনের দায়িত্ব পালন করবেন জানিয়ে মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী আরও বলেন, নতুন এই সিদ্ধান্তে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য হয়নি। এ ছাড়া গতকাল শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়ার আগে ছোট পরিসরে একটি সভাও করা হয়েছে। সেখানে একজন সিন্ডিকেট সদস্য, আইন বিভাগের শিক্ষক ও আইনজীবী ছিলেন। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় আইন বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে। এখন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়েছেন উপাচার্য।