
ঢোলকলমি নেই বাংলাদেশে, এমন গ্রাম আছে কি না বলা মুশকিল। দেশের পথের ধারে, জলার কাছে, হাওর, বাঁওড়ে, পাহাড়ের ঢালে সর্বত্রই ঢোলকলমি। নামের সঙ্গে ঢোলের সম্পর্ক কী, এমন তথ্যও জানা নেই। তবে যেখানে ডালপালা পড়ে থাকে, সেখানে যদি পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে, সেখানেই এটি বেড়ে ওঠে। গ্রামে বেড়া দেওয়ার কাজে এটি বহুল ব্যবহার্য একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এটা জ্বালানি হিসেবেও আদরণীয়। তাই এর অপর নাম দারুকলমি। ঢোলকলমি ফুল দেখতে আকর্ষণীয়। এ কারণেই আদি বাসভূমি সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে স্প্যানিশ পাদরি সাহেবেরা সপ্তদশ শতকে হিমালয়ের কাশ্মীর ও কাংড়া উপত্যকায় গির্জার বাগানে লাগানোর জন্য নিয়ে আসেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভারতবর্ষে। এখন এটি আগাছা হিসেবেই আমাদের দেশে পরিচিতি পেয়েছে। এটি খরা ও বন্যায় সহনীয় বলে প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।
কলমি পরিবারের (Convolvulaceae) উদ্ভিদ হলেও এটি লতা নয়। ফাঁপা কাণ্ড নিয়ে ঢোলকলমি বেড়ে ওঠে। অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়। জমির ধানখেতের পাশে, পতিত জমিতে, নিচু বিলের ধারে সর্বত্রই এর ব্যাপক উপস্থিতি। সুন্দর ফুলের শোভার পাশাপাশি এটি ভূমিক্ষয় রোধ করে। আমাদের দেশের গবাদিপশু এ কলমির পাতা খায় না। কারণ পাতায় তেতো স্বাদের সাদা কষ থাকে। এটির বীজ ও পাতায় বিষাক্ত উপাদানও রয়েছে। হাওরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে জন্মে পাখির বসার জায়গা দেয়। কীটপতঙ্গভুক পাখি ঢোলকলমির ডালে বসে পোকা ধরে খায়। গত দশকে এ পোকার ভয়ে এ গাছ ধ্বংস করার একটা হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে পোকাভীতি চলে গেছে। ঢোলকলমি ফুল সারা বছরই ফোটে। তবে বর্ষার শেষ ভাগ থেকে শরৎ-শীতে প্রস্ফুটনের জোয়ার থাকে বেশি। একটি মঞ্জরিতে ৪-৮টি ফুল থাকে। ফানেলাকার আকৃতির ফুল। পাঁচটি হালকা বেগুনি বা হালকা গোলাপি পাপড়ি। ফুলে মধুর জন্য কালো ভোমরা আসে। ঢোলকলমির বৈজ্ঞানিক নাম ipomoea carnea। ইংরেজি নাম Pink morning glory Bush morning glory। ব্রাজিলের আদিবাসীরা এর কাণ্ড তামাকের পাইপ হিসেবে ব্যবহার করে। কাণ্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা হয়। কিছু ভেষজ গুণও রয়েছে। পাতা হৃৎপিণ্ডাকার, সবুজ, ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা।